দুর্গাপুর, ২৭ জুন: ছাব্বিশের (২০২৬) ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর বাংলায় এবার তৃণমূলের বাৎসরিক ‘২১ জুলাই’-এর শহিদ দিবস পালন নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি ও প্রশাসনিক জল্পনার অবসান ঘটালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, মাত্র ৫ জন উপস্থিত থাকলেও আগামী ২১ জুলাই ধর্মতলাতেই শহিদ দিবস পালন করবেন তাঁরা। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী কড়া নির্দেশিকার (রাস্তা আটকে সভা-মিছিল না করার নির্দেশ) পরিপ্রক্ষিতে বর্তমান বিজেপি সরকার তৃণমূলকে ধর্মতলায় সমাবেশের অনুমতি দেবে কি না, তা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অগ্নিমিত্রা।
এদিন দুর্গাপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন:
“তৃণমূলকে তো কেউ শহিদ দিবস পালন করতে বারণ করেনি। তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে কর্মসূচি করতেই পারেন। কিন্তু সবটাই করতে হবে শুভেন্দু সরকারের কঠোর নিয়ম মেনে। রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে, জোরে লাউডস্পিকার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ ও বিরক্ত করে কোনও সভা করা যাবে না। মনে রাখবেন, বাংলার সবাই তো আর আপনার দলের সমর্থক নয়। যাঁরা আপনাদের দলকে সমর্থন করেন না, আপনারা মাইক বাজিয়ে তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও শান্তি বিঘ্নিত করবেন কেন?”
বিগত জমানার সঙ্গে বর্তমান সরকারের ফারাক স্পষ্ট করে প্রাক্তন ফ্যাশনিস্তা তথা বিজেপি নেত্রী আরও যোগ করেন, “আপনারা ১৫ বছর ধরে যে স্বৈরাচারী সরকারকে দেখেছেন, আমরা কিন্তু সেই দল নই। সেই সময় বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দলনেতাকে (শুভেন্দু অধিকারী) ছোটখাটো দলীয় সভার অনুমতির জন্যও বারবার হাইকোর্টে ছুটতে হয়েছিল। আমরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম বা কংগ্রেসের মুখ বন্ধ করে রাজনীতি করতে আসিনি। আমরা গণতন্ত্রে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দল চাই।”
“এসএসকেএম-এ ভালো চিকিৎসা আছে, আয়ুষ্মান কার্ডেই হয়ে যাবে”: অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ
২১ জুলাইয়ের পাশাপাশি এদিন তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য পুনরায় বিদেশ যাত্রা নিয়ে নজিরবিহীন কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন:
-
বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন নেই: অভিষেকবাবু চিকিৎসার জন্য বারবার বিদেশে কেন যাবেন? কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালেই এখন চোখের চিকিৎসার বিশ্বমানের চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে।
-
আয়ুষ্মান ভারতের দাওয়াই: অভিষেকবাবুকে আমরা বিদেশ যেতে দেব না, এখানেই তাঁর চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। আর ওনার তো কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) কার্ড রয়েছেই, তাই চিকিৎসার খরচের জন্য তাঁকে একটুও চিন্তা করতে হবে না।
সরকার অনুমতি না দিলে দল বুঝবে: পাল্টা কুণাল ঘোষ
অগ্নিমিত্রা পালের এই কড়া প্রশাসনিক বার্তার পর তৃণমূলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সরকারের এই শর্তসাপেক্ষ অবস্থানের পাল্টা জবাবে বলেন, “ধর্মতলার ওই নির্দিষ্ট স্থানেই ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ হয়েছিল এবং ঘটনাটি ওখানেই ঘটেছিল। তাই প্রতি বছর আবেগ জড়িয়ে থাকা শহিদ দিবস ধর্মতলাতেই পালন হয়। এবার যদি নতুন সরকার সেখানে অনুমতি না দেয় বা কোনও জটিলতা তৈরি করে, তবে পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বই চূড়ান্ত ঠিক করবেন।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা হাইকোর্টের শব্দদূষণ ও যানজট সংক্রান্ত গাইডলাইনকে সামনে রেখে ২১ জুলাইয়ের ধর্মতলার মেগা জনসভাকে একপ্রকার নিয়মের বেড়াজালে বেঁধে দিল নবান্ন। একদিকে বিরোধীদের গণতান্ত্রিক স্পেস দেওয়ার বার্তা, আর অন্যদিকে লাউডস্পিকার ও রাস্তা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তৃণমূলের ‘২১ জুলাই’-এর জাঁকজমক ও দাপটকে কার্যত শুরুতেই আইনি কোণঠাসা করে দিল শুভেন্দু সরকার।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







