কলকাতা, ২৭ জুন: ছাব্বিশের (২০২৬) ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে ‘ঘরের মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর, এবার স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের প্রচার পর্বে তিনি কথা দিয়েছিলেন, ভবানীপুরের মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে এবং সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে তিনি এখানে একটি স্থায়ী কার্যালয় তৈরি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই শুক্রবার, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিবসের পবিত্র লগ্নে ভবানীপুরে নিজের নতুন বিধায়ক কার্যালয়ের জমকালো উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার এই নতুন কার্যালয়ে দলীয় কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের উপস্থিতিতে এক জনাকীর্ণ উদ্বোধনী সভায় শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন:
‘‘ভোট মিটে গিয়েছে, এবার কাজ করার সময়। ভবানীপুরের মানুষ আমার ওপর যে ভরসা রেখেছেন, তার মর্যাদা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। এই অফিসটি স্রেফ কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়, এটি ভবানীপুরের সাধারণ মানুষের পরিষেবা কেন্দ্র। আপনারা এখানে রোজ আসবেন, ফর্ম ফিলাপ থেকে শুরু করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা— সব ধরণের নাগরিক পরিষেবা এই অফিস থেকে প্রতিদিন দেওয়া হবে।”
১৫ বছরের ‘দিদির দুর্গ’ যেভাবে ভাঙলেন শুভেন্দু
বিগত দেড় দশক ধরে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি ছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র রাজনৈতিক দুর্গ ও খাসতালুক। এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খতিয়ানটি নিচে দেওয়া হলো:
-
নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর, ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জিতে নিজের মুখ্যমন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
-
ছাব্বিশের সম্মুখ সমর: ২০২৬-এর মেগা ফাইটে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁরই চেনা পিচে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হন তত্কালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
-
ঐতিহাসিক পরাজয়: গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন দেখা যায়, তীব্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর নিজের খাসতালুকেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের এই পরাজয় তৃণমূল শিবিরের দেওয়ালে সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল। এতদিন ভবানীপুরের মানুষ যে কোনও প্রয়োজনে ‘দিদি’ বা কালীঘাটের ওপর ভরসা করতেন, ছাব্বিশের রায়ে সেই চেনা সমীকরণ এখন সম্পূর্ণ উল্টে গিয়েছে। ‘ঘরের মেয়ে’র একচেটিয়া আধিপত্যকে বিদায় জানিয়ে ভবানীপুরবাসী এখন আপন করে নিয়েছেন ‘দাদা’ শুভেন্দুকে।
আর জয়ী হওয়ার পর স্রেফ নবান্নে বসে না থেকে, বঙ্কিমচন্দ্রের জন্মদিনে ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই স্থায়ী কার্যালয় খুলে শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন— দক্ষিণ কলকাতার এই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রের রাশ তিনি নিজের হাতেই রাখতে চান। এই কার্যালয় চালু হওয়ার ফলে এলাকার বাসিন্দারা এখন ঘরের কাছেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধির মাধ্যমে সমস্ত পুর ও রাজ্য সরকারি পরিষেবা পাবেন, যা আগামী দিনে এই কেন্দ্রে বিজেপির সাংগঠনিক ভিতকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







