কলকাতা, ২৭ জুন: তারাতলায় নির্মাণাধীন বেআইনি গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজ ভেঙে পড়ার প্রলয়ঙ্করী দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। শনিবার সকালে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে (CCU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শুক্রবার দুপুরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা শ্রমিক খালেক সরকার। তাঁর মৃত্যুর পরেই মৃতের সংখ্যা ১৬ স্পর্শ করে। এছাড়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১৯ জন শ্রমিক, যাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক বলে জানা গিয়েছে।
লালবাজার ও কলকাতা পুলিশ সূত্রে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১২ জন শ্রমিকের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। নিহত এই ১২ জন হলেন:
১. কৃষ্ণা চৌধুরী (৪৯)
২. রোহিত চৌধুরী (২০)
৩. চন্দ্রমা চৌধুরী (৬০)
৪. রাহুল চৌধুরী (১৭)
৫. পপ্পু কুমার রজক (৪০)
৬. ঘি কুমার (১৭)
৭. আসগর হুসেন (৫৪)
৮. সাহিল সর্দার (১৭)
৯. হাসান ইমাম (৪৪)
১০. গণেশ কালিন্দী (৪৫)
১১. নবীন সিং (৪৪) এবং
১২. স্বপন মন্ডল।
মেয়রের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ গ্রেফতার, ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজত:
এই মহাবিপর্যয়ের নেপথ্যে থাকা দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এবার এক মস্ত বড় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়রের প্রাক্তন ওএসডি (OSD) তথা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওই লিজ-হোল্ডার সংস্থার কর্তাদের গ্রেফতার করেছেন সিটের তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের অনুমান, বেআইনিভাবে এই বহুতলের ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর নেপথ্যে এক বড়সড় আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক ক্ষমতা কাজ করেছিল। শুক্রবার ধৃত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করে আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের (Police Custody) নির্দেশ দিয়েছেন।
“কাউকে ছাড়া যাবে না”, বিধানসভায় নথি হাতে ফিরহাদকে নিশানা শুভেন্দুর:
তারাতলার এই গোডাউন বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতি ও বিধানসভার অন্দর চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনার দায় নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে।
বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের মাঝেই তড়িঘড়ি কড়া অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে স্পিকারের সামনে একটি বিল্ডিং প্ল্যানের নথি পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে গর্জে উঠে বলেন, “এই বহুতলের বিল্ডিং প্ল্যানটি সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ ছিল। আর সেই বেআইনি ও ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানে খোদ প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই দুর্নীতির চক্রে যুক্ত থাকা কোনও প্রভাবশালীকেই রেয়াত করা হবে না, কাউকে ছাড়া যাবে না।”
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে প্রাক্তন মেয়রের জমানার সমস্ত বাণিজ্যিক ফাইলের ওপর কড়া স্ক্রুটিনি শুরু করেছে সিট। ইতিমধ্যেই এই মামলায় গোডাউনের মূল মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং ঠিকাদারসহ একাধিক হেভিওয়েটকে গরাদের পেছনে পাঠানো হয়েছে। ধৃত কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ হেফাজতে ম্যারাথন জেরা করে কলকাতা পুরসভার আর কোন কোন শীর্ষ আধিকারিক এই বেআইনি নকশা অনুমোদনের পেছনে সই করেছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







