কলকাতা, ২৪ জুন: ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, জাভেদ খানদের পর এবার কি তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও এক দীর্ঘদিনের ‘ছায়াসঙ্গী’ তথা বিশ্বস্ত সেনাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুও দলবদল করতে চলেছেন? মঙ্গলবার বিধানসভা চত্বরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের একের পর এক হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ ঘিরে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র জল্পনা ও নতুন রাজনৈতিক রসায়নের গন্ধ পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন বিধানসভায় এসে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় প্রথমে সোজা চলে যান ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের প্রধান তথা সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করার পর, তিনি নবান্নের শীর্ষাসনে বসা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দেখা করতে যান। ছাব্বিশের (২০২৬) বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ যেভাবে দ্রুত পাল্টাচ্ছে, তাতে বালুর এই জোড়া সাক্ষাৎ ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্যের কুয়াশা।
উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের নির্বাচনে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ওপর অন্ধ আস্থা রেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চারদিকের তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ককে উপেক্ষা করেও তাঁকে ভোটে প্রার্থী করেছিল দল। এমনকী তৎকালীন সময়ে স্বয়ং নেত্রী দলের প্রবীণ এই নেতার পাশে দাঁড়িয়ে জনসভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, “বালু করেছেটা কী?” নেত্রীর মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে জ্যোতিপ্রিয় নির্দোষ এবং তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। নির্বাচনে বালু জিততে না পারলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসার হাত তাঁর মাথা থেকে সরেনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘নয়া তৃণমূল’ ও ‘আসল তৃণমূল’-এর আড়াআড়ি বিভাজনের পর ইতিমধ্যেই দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আর তার পরেই মঙ্গলবার বিধানসভায় এসে প্রথমে ঋতব্রতর ঘরে হাজিরা দেওয়া এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করা— সাধারণ রাজনৈতিক সৌজন্যের বাইরে এক গভীর সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একদিকে সিআইডি ও ইডি-র আইনি জাঁতাকল থেকে বাঁচতে নবান্নের গুড-বুক বা সুনজরে থাকা এবং অন্যদিকে তৃণমূলের সমান্তরালভাবে তৈরি হওয়া ‘আসল’ শক্তিতে নিজের রাজনৈতিক আস্তানা পাকা করতেই এই দ্বিমুখী চাল চালছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। একে একে পুরনো সঙ্গীরা যেভাবে কালীঘাটের হাত ছেড়ে নিউটাউন কিংবা পদ্ম শিবিরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন, তাতে জ্যোতিপ্রিয়র এই পদক্ষেপ মমতা-পন্থী তৃণমূলের কফিনে আরও একটি বড় পেরেক হতে চলেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







