সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ঐতিহাসিক ও পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, যা রাজ্যজুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রান্তিক স্তরের সরকারি কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করল। রাজ্যের বর্তমান প্রধান চ্যালেঞ্জ বেকারত্ব দূরীকরণ এবং পূর্বতন জমানার থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতার সঙ্গে গতিশীল করতে এই বাজেটে একযোগে ১ লক্ষ শূন্যপদে সরকারি চাকরি দেওয়ার এক মেগা মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই ১ লক্ষ ঐতিহাসিক কর্মসংস্থানের মধ্যে নারী ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৩৩ শতাংশ পদ সরাসরি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মোট শূন্যপদের মধ্যে ৫০ হাজার পদে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী এবং ২০ হাজার পদে পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে যেখানে প্রয়োজন সেখানে ১০ শতাংশ পদ ‘অগ্নিবীর’দের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যুবসমাজের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাজ্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় এককালীন ৫ বছরের জন্য ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি যে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং ওএমআর (OMR) শিটের স্বচ্ছতা বজায় রেখে হবে, তা নবান্ন ও অর্থ দফতরের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে।
নিয়োগের এই মহোৎসবের পাশাপাশি গ্রামীণ ও নগর পরিকাঠামো সচল রাখা চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী করোনা-যোদ্ধা ও ফ্রন্টলাইন কর্মীদের জন্য এক বিপুল আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। বাজেটের রূপরেখা অনুযায়ী, আগামী অগস্ট মাস থেকেই রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, গ্রিন পুলিশ এবং এনভিএফ (NVF) কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক একধাক্কায় ২,০০০ টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব মঞ্জুর করা হয়েছে। সমান্তরালভাবে গ্রামীণ পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত প্রাণীবন্ধু ও প্রাণিমিত্রদেরও প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে বেতন বাড়ছে। তবে এবারের বাজেটে সবচেয়ে বড় চমক ও উপহার দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মেরুদণ্ড তথা আশাকর্মীদের (ASHA Workers)। সমাজে তাঁদের অবদানের নজিরবিহীন স্বীকৃতি দিয়ে আশাকর্মীদের মাসিক ফিক্সড সাম্মানিক বা অনারারিয়াম একলাফে ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধির ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সব মিলিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে জনমোহিনী প্রকল্পের পাশাপাশি যেভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেতন কাঠামোর ভোল বদলে দেওয়া হয়েছে, তাতে নবান্নের অলিন্দ থেকে শুরু করে বিধানসভার অন্দরে খোদ বিরোধী শিবিরের নেতারাও গোপনে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন যে, বাংলার সাম্প্রতিক সংসদীয় ইতিহাসে এমন ভারসাম্যযুক্ত ও দূরদর্শী বাজেট আগে আর কখনও পেশ হয়নি।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







