পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সমস্ত স্থায়ী ও সংসদীয় কমিটিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ ‘পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি’ (PAC) বা পিএসি-র চেয়ারম্যান পদকে কেন্দ্র করে এবার এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হলো রাজ্য রাজনীতিতে। বিধানসভার পক্ষ থেকে পিএসি গঠনের সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আগামী ৫ জুলাই নির্বাচনের দিন স্থির করতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত কার দখলে যেতে চলেছে এই হাই-প্রোফাইল পদ। সংসদীয় প্রথা ও ঐতিহ্য অনুযায়ী, সরকারি হিসাব খতিয়ে দেখার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান পদটি সবসময় প্রধান বিরোধী দলের মনোনীত কোনও বিধায়কের পাওয়ার কথা। তবে বিগত তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় মুকুল রায় বা কৃষ্ণ কল্যাণীর মতো দলত্যাগী বিধায়কদের এই পদে বসিয়ে সেই প্রথা ভাঙার ভূরি ভূরি অভিযোগ তুলেছিল তৎকালীন বিরোধী দলগুলি। এবার ক্ষমতার পরিবর্তনের পর, একদিকে যখন পরিষদীয় প্রথা পুনরুদ্ধারের দাবি উঠছে, ঠিক তখনই তৃণমূলের অন্দরে চলা আড়াআড়ি ভাঙন ও দুই শিবিরের অস্তিত্বের লড়াই এই পদটিকে ঘিরে জটিলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, পিএসি-তে চেয়ারম্যান সহ সর্বাধিক ২০ জন সদস্য থাকতে পারেন এবং যদি ২০ জনের বেশি বিধায়ক এই কমিটির সদস্য পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন, তবেই আগামী ৫ জুলাই বিধানসভার অন্দরে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাভুটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সাম্প্রতিক সংসদীয় ইতিহাসে পিএসি গঠন নিয়ে বাংলার বিধানসভায় ভোটাভুটির কোনও নজির বা উদাহরণ নেই; সাধারণত সর্বদলীয় আলোচনার মাধ্যমেই এই সদস্য ও চেয়ারম্যান পদ চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিধানসভার অন্দরে একদিকে যেমন শাসক দল ও মূল বিরোধী দলগুলি তাদের স্ট্র্যাটেজি সাজাচ্ছে, ঠিক তেমনই ‘আসল তৃণমূল’ এবং কালীঘাটের ‘ভবানীপুর তৃণমূল’— দুই শিবিরই বিধানসভায় নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে এবং এই সম্মানীয় পদের দখল নিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ৫ জুলাই যদি সত্যি সত্যি একাধিক দল মনোনয়ন জমা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি হয়, তবে তা বিধানসভার ইতিহাসে এক অত্যন্ত নজিরবিহীন ঘটনা হয়ে উঠবে এবং এই ভোটাভুটির সমীকরণই ঠিক করে দেবে শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠতে চলেছে পিএসি চেয়ারম্যানের মুকুট।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







