তৃণমূল জমানায় ঘটে যাওয়া একাধিক মর্মান্তিক ও রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় স্বজনহারা পরিবারগুলির দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত গতিশীল করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সশরীরে দেখা করতে আসেন নদিয়ার কালীগঞ্জের নিহত শিশু তামান্নার মা এবং হাওড়ার আমতার নিহত ছাত্রনেতা আনিস খানের বাবা সালেম খানসহ বিগত সরকারের আমলে স্বজনহারা বেশ কয়েকটি পরিবার। নবান্ন ও বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, বিচারের দাবিতে আসা এই পরিবারগুলির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁদের অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ শোনেন। পরিবারের সদস্যদের কান্না ভেজা বক্তব্য শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (DG)-কে ফোন করে এই সমস্ত বকেয়া মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই তড়িৎ ও সংবেদনশীল প্রশাসনিক তৎপরতায় আশ্বস্ত হয়ে তামান্নার মা এবং আনিসের বাবা সালেম খান দুজনেই শুভেন্দু অধিকারীর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা প্রকাশ করেছেন। তামান্নার মা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “২০২৩ সালের জুন মাসে নদিয়ার কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৎকালীন শাসকদলের বিজয় মিছিল থেকে ছোঁড়া বোমায় জখম হয়ে আমার ১০ বছরের মেয়ে তামান্না মারা যায়। কিন্তু বিগত সরকার আমাদের বিচার দেওয়ার জন্য কিছুই করেনি, উল্টে আসল অভিযুক্তরা বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন বিচার হবেই, তাতে মনে হচ্ছে এবার আমার মেয়ে আত্মা শান্তি পাবে।” সমান্তরালভাবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা আনিস খানের বাবা সালেম খানও বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের জানান, মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে তাঁরা অত্যন্ত খুশি এবং নতুন সরকারের জমানায় তাঁর ছেলের রহস্যমৃত্যুর প্রকৃত সত্য ও নিরপেক্ষ বিচার এবার দিনের আলো দেখবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







