কলকাতা, ২৪ জুন: শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে ৫০ কোটি টাকা উদ্ধারের সেই কালো অধ্যায় এখনও রাজ্যবাসীর স্মৃতিতে টাটকা। এবার ঠিক একই কায়দায় বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বারাসতের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী সব্যসাচী দত্তের বান্ধবী টিনা ভৌমিক সাহার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। পেশায় একজন সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (Primary School) শিক্ষিকা এবং নদিয়া জেলা পরিষদের তৃণমূল সদস্যা টিনা ভৌমিক সাহার তেহট্টের দুটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩ কেজি সোনা। একজন প্রাথমিক শিক্ষিকার ঘরে কোথা থেকে এল এই বিপুল পরিমাণ চুরির ধন, তা নিয়ে কড়া তদন্ত শুরু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ।
তোলাবাজি ও হুমকির জোড়া অভিযোগে গত ৮ জুন গ্রেপ্তার হওয়া সব্যসাচী দত্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতেই একের পর এক লকার ও বান্ধবীর বাড়ির এই গুপ্তধনের হদিশ পেতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। কয়েকদিন আগেই সব্যসাচীর রাজারহাটের ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে ৮৭ গ্রাম সোনা এবং প্রায় ৫০ কেজি সোনা কেনার রসিদ ও ব্যাঙ্ক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছিল পুলিশ। এর পরেই সোমবার সব্যসাচীর একটি ব্যাঙ্কের লকার থেকে ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৩ কেজি সোনা এবং আরেকটি লকার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ১ কেজি ৩০০ গ্রাম রুপো বাজেয়াপ্ত করা হয়। সব্যসাচীকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার মাঝরাতে নদিয়ার তেহট্টে টিনা ভৌমিক সাহার দুটি বাড়িতে একসঙ্গে হানা দেয় পুলিশ এবং সেখান থেকেও উদ্ধার হয় আরও ৩ কেজি নিরেট সোনা।
“সব সোনা ২০২১ সালের পরে কেনা”, রসিদ হাতে নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু:
এই মেগা উদ্ধারকাণ্ডের পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন তৃণমূল জমানার তীব্র দুর্নীতিকে নিশানা করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। বিধাননগরের এই প্রভাবশালী নেতার বান্ধবীর বাড়ি থেকে কেজি কেজি সোনা পাওয়ার প্রসঙ্গে বিরোধী শিবিরকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
“বিধাননগরে আপনাদের বড় নেতা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর মতো ওনারও বান্ধবীর বাড়ি থেকে কেজি কেজি সোনা পাওয়া যাচ্ছে। মাননীয় বিরোধী দলনেতা আগে ঠিক করুন কার পক্ষে বলবেন আর কার বিরুদ্ধে বলবেন। উদ্ধার হওয়া সমস্ত সোনা ২০২১ সালের পরে কেনা হয়েছে এবং সেই সোনা কেনার পাকা রসিদও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।”
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিধাননগর ও রাজারহাট-নিউটাউন এলাকায় সব্যসাচী দত্তের চালানো সিন্ডিকেটরাজ ও তোলাবাজির কালো টাকাকে সোনাতে রূপান্তর করতেই বান্ধবীর বাড়ি ও লকারগুলিকে সেফ কাস্টডি বা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তেহট্টের সাধারণ প্রতিবেশীরাও একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকার এই দেদার বিলাসবহুল জীবন ও বিপুল সোনা প্রাপ্তি দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সোনা এবং ২০২১ সালের পরবর্তী রসিদগুলির উৎস কী, একজন শিক্ষিকার বেতনের সঙ্গে এই সম্পত্তির সামঞ্জস্য কীভাবে সম্ভব— এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার টিনা ভৌমিক সাহাকে হেফাজতে নিয়ে সব্যসাচীর মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিধাননগর পুলিশ।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







