নবান্ন, ২৯ জুন: উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট এবং অসমের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের বুকেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ‘এক দেওয়ানি আইন’ চালু করা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় এই বহুচর্চিত বিলটি শেষ পর্যন্ত পেশ করছে না শুভেন্দু সরকার। তড়িঘড়ি বিল না এনে, বাংলার জটিল জনবিন্যাস ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কথা মাথায় রেখে আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি নিল নবান্ন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইউসিসি বিলের রূপরেখা ও খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য রাজ্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে চলেছে। আজ খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি সরকারি বিবৃতি দিয়ে এই কমিটি গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন।
রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, তাদের নির্বাচনী সংকল্পপত্রে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করা হবে। সেই মতো সরকার গঠনের মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বড়সড় আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটে শাসকদল। সোমবার রাজ্য বিধানসভার কার্যসূচিতে আরও কয়েকটি বিলের পাশাপাশি ইউসিসি বিলটিও পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আইনি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কথা বিবেচনা করে সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরির জন্য উত্তরাখণ্ড সরকারের সফল মডেলকে অনুসরণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনাপ্রকাশ দেশাইকে এই প্রস্তাবিত কমিটির চেয়ারম্যান করা হতে পারে, যিনি উত্তরাখণ্ডের ইউসিসি কমিটির দায়িত্বে ও খসড়া তৈরির নেপথ্যেও ছিলেন। বিচারপতি দেশাইয়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রাথমিক স্তরের কথাবার্তা ইতিমধ্যেই ইতিবাচকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সোমবার সরকারের শীর্ষস্তরের আরও এক দফা আলোচনার পর তাঁর নাম চূড়ান্ত সিলমোহর পেতে পারে। এই কমিটিতে পরবর্তীতে বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজতাত্ত্বিক ও আইনি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে বিলটি নিয়ে কোনও বড়সড় সামাজিক ক্ষোভ তৈরি না হয়।
রাজনৈতিক ও আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক, ধর্মীয় ও ভৌগোলিক সমীকরণ অনেকটাই আলাদা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে আদিবাসী ও বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিজস্ব সামাজিক প্রথা রয়েছে। তড়িঘড়ি বিল পাস করালে বড়সড় আইনি জটিলতা বা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না। সে কারণেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে, আগে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি নিঁখুত খসড়া তৈরি করিয়ে নিতে চাইছেন। সমস্ত মহলের মতামত নিয়ে একটি সর্বগ্রাহী বিল তৈরি করাই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ফলে সোমবার ইউসিসি বিল পেশ না হলেও, কমিটি গঠনের মাধ্যমে সরকার স্পষ্ট করে দিল যে প্রতিশ্রুতি পূরণের পথ থেকে তারা সরছে না, বরং আইনি কোমর বেঁধেই ময়দানে নামছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







