রেজিনগর, ২৭ জুন: দলবদল হয়েছে, রাজ্যে শাসনক্ষমতার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু মুর্শিদাবাদের বিতর্কিত ও দাপুটে নেতা হুমায়ুন কবীরের বেলাগাম মুখ এবং চরম উস্কানিমূলক ভাষার কোনও পরিবর্তন হলো না। পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ছাব্বিশের (২০২৬) বিধানসভা নির্বাচনে জোড়া আসনে জিতে নিজের রাজনৈতিক দাপট প্রমাণ করলেও, শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার এক জনসভা থেকে পুনরায় তীব্র হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণ ও হিংসাত্মক মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন তিনি। তাঁর এই বেলাগাম হুঁশিয়ারির জেরে মুর্শিদাবাদসহ রাজ্যের নাগরিক মহলে চরম উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার রেজিনগরের জনসভায় দাঁড়িয়ে নবগঠিত বিজেপি সরকারকে নিশানা করে হুমায়ুন কবীর সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
‘‘বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু, একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না। কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।”
উল্লেখ্য, বিগত দিনে তৃণমূলের বিধায়ক থাকাকালীনও “হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীর জলে মিশিয়ে দেব”—র মতো চরম কুরুচিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করেছিলেন হুমায়ুন। রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও তাঁর মুখে সেই একই ‘স্যাটাভাঙা মার’-এর হুমকি শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বহিষ্কার থেকে জোড়া জয়: হুমায়ুনের রাজনৈতিক চালচিত্র
তৃণমূল জমানার শেষ লগ্নে তাঁর এই ক্রমাগত উস্কানিমূলক ও হিংসাত্মক বিবৃতির জেরে কালীঘাট শিবির তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছিল। এরপর তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার খতিয়ান:
-
নতুন দল গঠন: তৃণমূল থেকে বিতাড়িত হয়ে তিনি নিজেই গঠন করেন ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ এবং ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
-
বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত ও অডিও বিতর্ক: ভোটের ঠিক আগে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ছড়ায় যে, কোটি টাকার বিনিময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে বিজেপির সঙ্গে গোপন হাত মিলিয়েছেন হুমায়ুন। এই সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপও সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল।
-
জোড়া আসনে জয়: সমস্ত বিতর্ক ও সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছাব্বিশের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের নওদা ও রেজিনগর— দুটি কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি নিজেই তাঁর দলের একমাত্র বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তীতে আইনি নিয়ম মেনে রেজিনগর আসনটি তিনি নিজের ছেলের জন্য ছেড়ে দেন।
নবান্নের অলিন্দে এখন নতুন সরকার বসলেও, মুর্শিদাবাদের মাটিতে হুমায়ুন কবীরের এই প্রকাশ্য সাম্প্রদায়িক ও হিংসাত্মক আস্ফালন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক নিজের রাশিতে ধরে রাখতেই ইচ্ছাকৃতভাবে ফের এই হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের তাস খেলছেন হুমায়ুন। তবে নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় এই ধরণের প্রকাশ্য উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনও কড়া আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর (FIR) দায়ের করে কি না, এখন সেটাই দেখার।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







