কলকাতার বুকে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ঔপনিবেশিক এবং বিতর্কিত ইতিহাসের নাম মুছে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী গৌরব পুনরুদ্ধার করতে এক বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, “কলকাতায় কোনও মোগল-পাঠানের নাম থাকবে না। ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া অন্য কোনও বিদেশির নামে নতুন রাস্তা করতে গেলে এবার থেকে দশবার ভাবতে হবে।” রাজ্যের শাসনভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই যেভাবে খোলনলচে বদলে ফেলা হচ্ছে প্রশাসনিক পরিকাঠামো, তারই ধারাবাহিকতায় এবার মহানগরের বিতর্কিত রাস্তাগুলির নাম পরিবর্তনের জন্য ‘পদ্মশ্রী’ স্বামী প্রদীপানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের নামকরণ মূল্যায়ন কমিটি (Naming Evaluation Committee) গঠন করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিশেষ কমিটিতে বাংলার মনীষী, সমাজ সংস্কারক ও বিপ্লবীদের নাম প্রস্তাব করার জন্য সাধারণ মানুষ ও গবেষকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই নীতিগত ঘোষণার সমান্তরালে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই কলকাতার পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৫০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা— যা এতদিন ‘সুরহাবর্দি অ্যাভিনিউ’ নামে পরিচিত ছিল— তার নাম স্থায়ীভাবে বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ (Gopal Mukherjee Road) করে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। গত ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের পুণ্য লগ্নে এই ঐতিহাসিক নামকরণের বিষয়টি উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, “কয়েক দশক ধরে কলকাতার একটি প্রধান রাস্তার নাম এমন একজনের নামে উৎসর্গ করা ছিল, যিনি নিছক রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯৪৬ সালে গণহত্যা (Direct Action Day) চালিয়েছিলেন। সেই ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে বুক চিতিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। আজ তাঁর নামে এই রাস্তার নামকরণ করে এত দিনে বাংলার প্রকৃত বীর সন্তান ও ত্রাণকর্তাকে যোগ্য সম্মান জানানো হলো।” বিধানসভার অধিবেশনে ‘সুরহাবর্দি’ নামের তীব্র বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা দাস যখন ব্রিটিশ গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ্য করে ৫টি গুলি চালিয়েছিলেন, তখন তাঁকে ব্রিটিশদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্তের পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন এক উপাচার্যকে ‘নাইট’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল; তাই এই ধরণের কলঙ্কিত ইতিহাস আর কলকাতার বুকে প্রশ্রয় পাবে না। তবে এই পরিবর্তনের জেরে সাধারণ মানুষের যাতে কোনও বিভ্রান্তি না হয়, তার জন্য ড. এপিজে আবদুল কালামের মতো প্রকৃত দেশভক্ত ও মনীষীদের নামকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে এই মূল্যায়ন কমিটি অত্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে কাজ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে নবান্ন।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







