রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ মুষলপর্বের আবহে এবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে ‘সাসপেন্ড’ বা বহিষ্কার করার চরম সিদ্ধান্ত নিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস শিবির। সোমবার নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেল ‘নোভোটেল’-এ আয়োজিত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস স্পেশাল সেশন’ নামক বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা পুরনিগমের (KMC) প্রায় ৭০ জন কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন জেলার একগুচ্ছ হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতিতে এই নজিরবিহীন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় বাজেট পেশের পরেই আয়োজিত এই গোপন ও হাই-প্রোফাইল বৈঠকে হাজির হয়ে একে একে বাস থেকে নামতে দেখা যায় কলকাতার বিদায়ী বোর্ডের প্রভাবশালী কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস, তারক সিং, অসীম বসু ও কাকলি সেনদের। মমতার অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বিধায়ক জাভেদ খানের উপস্থিতিতে এই দলীয় মঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, বাংলায় তৃণমূল ঝুরঝুর করে ভেঙে যাওয়ার পেছনে মূল দায় ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বেচ্ছাচারী নীতি, যাকে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্ধ স্নেহের কারণে ছোঁয়া যায়নি। এই বিশেষ অধিবেশনে অভিষেককে বহিষ্কার করার পাশাপাশি পাল্টা ‘আসল তৃণমূল’-এর ৩০ সদস্যের এক নতুন জাতীয় কর্মসমিতিও ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে হাওড়া মধ্য কেন্দ্রের প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান এবং ফিরহাদ হাকিমকে ভাইস চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নবগঠিত এই সমান্তরাল কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন এবং খোদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যা ভবানীপুর তথা কালীঘাট শিবিরের সমান্তরাল অস্তিত্বের সামনে এক চূড়ান্ত আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ খাড়া করে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







