best news portal development company in india

তারাতলা দুর্ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা! বিক্ষোভের মুখে এলাকাছাড়া আনোয়ার, ‘শান্তি এড়াতে’ ফিরহাদকে ফেরাল পুলিশ

SHARE:

কলকাতা, ২৫ জুন: তারাতলায় নির্মাণাধীন তিনতলা গুদাম হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনাস্থলকে কেন্দ্র করে বুধবার চরম উত্তেজনা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি হলো। ধ্বংসস্তূপের পরিস্থিতি সশরীরে খতিয়ে দেখতে এবং উদ্ধারকাজের তদারকি করতে প্রাক্তন পুরমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও, শেষ পর্যন্ত পুলিশের অনুরোধে তাঁকে ফিরে যেতে বাধ্য হতে হয়। এলাকায় নতুন করে কোনও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা অপ্রীতিকর রাজনৈতিক অশান্তি যাতে তৈরি না হয়, সেই কারণেই মূলত পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফিরহাদ হাকিমকে দুর্ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিপর্যয় ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর আনোয়ার খান। কিন্তু তারাতলার ওই বেআইনি ও দুর্বল নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মনে আগে থেকেই যে তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল, তা আনোয়ার খানকে দেখামাত্রই আছড়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা ও শ্রমিকদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে কার্যত এলাকাছাড়া হতে হয় ওই তৃণমূল কাউন্সিলরকে। এই ঘটনার পর দুর্ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ও সার্বিক শান্তি বজায় রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় পুলিশ প্রশাসন। সেই কারণেই ফিরহাদ হাকিম যখন ঘটনাস্থলের দিকে আসছিলেন, তখন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা তাঁকে মাঝরাস্তা থেকেই ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। পুলিশের সেই অনুরোধ মেনে ফিরে গেলেও, পরবর্তীতে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন ফিরহাদ।

তারাতলা বিপর্যয়ের সর্বশেষ খতিয়ান (বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত):

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেনা, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর উদ্ধারকাজের মাঝেই বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির সরকারি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা নিচে দেওয়া হলো:

  • নিহত ৩ জন: এই ধ্বংসাবস্থার নিচে চাপা পড়ে এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ভাটপাড়ার বাসিন্দা কৃষ্ণা চৌধুরী (৩০), রোহিত চৌধুরী (৪০) এবং আরও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি, যাঁর নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

  • উদ্ধার ও চিকিৎসাধীন: ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে এখনও পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

  • গ্রিন করিডর ও অ্যাম্বুলেন্স: দ্রুত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দুর্ঘটনাস্থলে মোট ২০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের কলকাতা পুলিশের বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ (Green Corridor)-এর মাধ্যমে দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে মোট ৮ জন শ্রমিক আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন এই শ্রমিকরা হলেন— দুর্বাশা মাল্লান, মণিচাঁদ কুমার, শহিদ কুমার, রাজেশ রুইদাস, বিশ্ব প্রকাশ, বোদন মুণ্ডা, রাজেন্দ্র রাও এবং রামপ্রসাদ চৌধুরী। অন্যদিকে, দুর্ঘটনাস্থলে নতুন সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজের প্রতি মুহূর্তের তদারকি করছেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

best news portal development company in india
best news portal development company in india
सबसे ज्यादा पड़ गई