কলকাতা, ২৫ জুন: রাজ্যে কাটমানি, সরকারি চাকরিতে ঘুষ এবং প্রাতিষ্ঠানিক চুরি-দুর্নীতি সমূলে উৎপাটন করতে এক অত্যন্ত কঠোর ও নজিরবিহীন আইন আনতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। প্রস্তাবিত এই দুর্নীতি-বিরোধী আইনের মূল লক্ষ্যই হলো— রাজ্যের যেকোনো স্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিক, রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেআইনি উপায়ে অর্জিত সমস্ত সম্পত্তি সরাসরি বাজেয়াপ্ত (Confiscation of Property) করা। বিধানসভা সূত্রে খবর, এই মেগা বিলটি পেশ এবং পাস করানোর জন্য আগামী সোমবার, ২৯ জুন মাত্র একদিনের জন্য বিধানসভার একটি বিশেষ ও জরুরি অধিবেশন (Special Assembly Session) ডাকা হচ্ছে।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিধানসভার চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব আজ, ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত চলার কথা ছিল। এর পর একটি দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আগামী ৭ জুলাই থেকে দ্বিতীয় দফার মূল অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা (প্রসঙ্গত, প্রথমে ৬ জুলাই থেকে অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও, ওই দিন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় তা একদিন পিছিয়ে ৭ জুলাই করা হয়)। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে অত্যন্ত কড়া দুর্নীতি-বিরোধী বিলটি আনার ঘোষণা করেছেন, তার খসড়া বা ড্রাফটিং (Framing) তৈরির কাজ এই মুহূর্তে নবান্ন ও আইন দফতরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। আজ ২৫ জুনের মধ্যে বিলের সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখে ড্রাফটিং শেষ করা কার্যত অসম্ভব বলেই এই বিশেষ অন্তর্বর্তীকালীন জরুরি অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন আইনের খসড়ায় যাতে কোনও রকমের আইনি ফাঁকফোকর বা ‘লুপহোল’ না থাকে, তার জন্য রাজ্যের শীর্ষ আইন বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি ধারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন। বিগত সরকারের আমলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে এই বিলটি শুভেন্দু সরকারের এক ব্রহ্মাস্ত্র হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আগামী সোমবার একদিনের এই বিশেষ অধিবেশনে বিলটি পেশ হলে রাজ্য রাজনীতিতে যে এক বিরাট তোলপাড় সৃষ্টি হবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







