তারাতলার বেসব্রিজ এলাকায় নির্মাণাধীন তিনতলা গুদাম ভেঙে পড়ার প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয় এবার কেড়ে নিল ভাটপাড়ার এক দরিদ্র পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপকে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাশা এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা চৌধুরী। বুধবার রাতে এই মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানো মাত্রই কান্নার রোলে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা। মৃত কৃষ্ণা ছিলেন ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য, যাঁর যান্যসামান্য আয়ের ওপর ভরসা করে বেঁচে ছিল পুরো সংসার। আচমকা এই বজ্রপাতে ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকার দেখে কৃষ্ণার মা যশোদা দেবী চৌধুরী ও তাঁর পরিজনেরা এখন আক্ষরিক অর্থেই দিশেহারা।
ভাটপাড়ার পূর্বাশা এলাকায় নেমে আসা এই চরম শোকের আবহে প্রতিবেশীরা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। নিহত কৃষ্ণা চৌধুরীর ভাইয়ের বৌ রেখা চৌধুরী ডুকরে কেঁদে উঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে আকুল আর্জি জানিয়ে বলেন, “আমরা তো প্রথমে কিছুই জানতে পারিনি, হঠাৎ একটা ফোনে সব শেষ হয়ে গেল। মুখ্যমন্ত্রী বাবুর কাছে হাত জোড় করে বলব, আমাদের পরিবারে ছোট ছোট বাচ্চা আছে, তিনি যেন একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। আমার স্বামী সামান্য জোগাড়ারের কাজ করেন, আর যে ছেলেটি একটু বেশি রোজগার করে সংসারটা টানছিল, আজ তার সঙ্গেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল।” অন্যদিকে, পরশু দিন সকালে সুস্থ শরীরে বেসব্রিজের কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাওয়া ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে মা যশোদা দেবী চৌধুরী শুধু বললেন, “পরশু দিন কাজে গিয়েছিল বেসব্রিজে…”, এর পর আর কোনও কথা তাঁর গলা দিয়ে বের হয়নি; একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তাঁর বুকফাটা কান্না এখন ভাটপাড়ার আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







