তারাতলায় গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে নেমে চরম গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগে বুধবার মধ্যরাতে জেমস লং সরণির একটি বিলাসবহুল আবাসন থেকে নাটকীয়ভাবে আটক করা হয়েছে পলাতক গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের নির্দেশে গঠিত ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এই হেভিওয়েট মামলার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পরেই শম্ভুনাথের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে ওই আবাসনে হানা দেয়। সেখানে শম্ভুনাথের নামে ৬টি ফ্ল্যাট থাকলেও পরিবারের সদস্যরা তাঁর উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেন, কিন্তু পার্কিং লটে তাঁর সমস্ত গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ বাড়ে গোয়েন্দাদের। এরপর শম্ভুনাথের তিন ব্যক্তিগত ড্রাইভারকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ এবং আবাসনের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর, মধ্যরাতে ওই আবাসনেই তাঁর এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে আচমকা হানা দিয়ে তাঁকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ভয়াবহ এই বিপর্যয় ও মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই তারাতলা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১০৫, ১১০ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ, যার আইও (IO) নিযুক্ত হয়েছেন গোয়েন্দা দফতরের ইন্সপেক্টর হীরক দলপতি। শম্ভুনাথের এই নাটকীয় আটকের আগেই পুলিশ এই কাণ্ডে যুক্ত থাকার অপরাধে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, নির্মাণ সুপারভাইজার সইদ মহম্মদ গুলজার এবং ঠিকাদার মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ সরকারকে গ্রেফতার করেছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, বেআইনি ও দুর্বল পরিকাঠামো নির্মাণ জেনেশুনেও স্রেফ অতিরিক্ত মুনাফার লোভে নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন মালিকপক্ষ। এই বড়সড় বেআইনি নির্মাণ ও দুর্ঘটনার পিছনে পুরসভার কোনও যোগসূত্র বা অন্য কোনও প্রভাবশালীর হাত রয়েছে কি না, তা জানতেই আজ ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে মূল অভিযুক্ত শম্ভুনাথ বেহরাকে ম্যারাথন জেরা করবে সিট।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







