নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ অধিবেশন ডেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করে ‘আসল তৃণমূল’-এর সমান্তরাল জাতীয় কমিটি ঘোষণার পর, এবার বিদ্রোহী শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় যুদ্ধং দেহি হুঙ্কার ছাড়লেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রধান মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। দলের প্রতীক ও লোগো কেড়ে নেওয়ার বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি চ্যালেঞ্জকে সরাসরি গ্রহণ করে কুণাল ঘোষ বিদ্রোহীদের ‘গদ্দার’ ও ‘কুনকি হাতি’ বলে বেলাগাম আক্রমণ শানান। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এই গদ্দারেরা যা করেছে তা মায়ের পেটে এবং পিঠে ছুরি মারার সমান। যে মহিলার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আন্দোলনকে নিংড়ে নিয়ে এরা আজ নিজেদের সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, আজ ক্ষমতার লোভে তারা তাঁর সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করল। বিধানসভায় সংখ্যাতত্ত্ব বা বিধায়ক-কাউন্সিলরের সংখ্যা যাই বলুক না কেন, আমরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নই; কারণ আমরা জানি মানুষের দরবারে এই গদ্দারদের রাজনৈতিক কেরিয়ার চিরতরে শেষ এবং আগামী দিনে মানুষ এদের একটাও ভোট দেবে না।”
দলের অন্দরে চলা এই নজিরবিহীন ভাঙনের আবহে নেত্রীর অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বয়সেও এদের জেতাতে এবং প্রতিষ্ঠা দিতে দিনরাত এক করে লড়েছেন। আজ হাতের পাঁচটা আঙুল মুষ্টিবদ্ধ হয়ে নেত্রীর বিরুদ্ধেই গদ্দারি করে চলে গেল। আইনের লড়াই আদালতে পরে হবে, তার আগে এদের এই মানসিকতার বিচার ভগবানের দরবারে হবে। এই মুহূর্তে ঋতব্রতদের শিবিরে থাকা অনেকেই মূলত ভয় এবং প্রবল রাজনৈতিক চাপে পড়ে ওখানে গিয়েছেন। আমরা আজ সংখ্যায় কম হতে পারি, কিন্তু আমরা গর্বিত যে আমাদের সঙ্গে সততা এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন।” সব মিলিয়ে ‘আসল তৃণমূল’ তৈরি করে সরাসরি সুপ্রিমোকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ার পর, কালীঘাট শিবিরের এই তীব্র পাল্টা আক্রমণ জোড়া শিবিরের সংঘাতকে এক চরম ও চূড়ান্ত রাজনৈতিক যুদ্ধের রূপ দিল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







