গঙ্গাস্নানের আশায় হরিদ্বারে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন বহু পুণ্যার্থী। ভারতের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান হর কি পৌরি ঘাটে জলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় কার্যত শুকিয়ে গিয়েছে ঘাটের বিস্তীর্ণ অংশ। গঙ্গা খাল ১৮ দিনের জন্য বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্ষিক পরিষ্কার ও মেরামতির কাজের জন্য জলপ্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ৭ নভেম্বর মধ্যরাতে ফের খালটি খুলে দেওয়ার কথা।
হর কি পৌরি হরিদ্বারের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। গঙ্গাস্নান থেকে সন্ধ্যার গঙ্গা আরতি—সারা বছরই এখানে ভিড় করেন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ। বর্তমানে বাঙালি তীর্থযাত্রীদের মরসুম চলায় বাংলার বহু ভক্তও হরিদ্বারে যাচ্ছেন। কিন্তু ঘাটে পর্যাপ্ত জল না থাকায় পুণ্যস্নান করতে না পেরে হতাশ তাঁরা। কয়েক জন ভক্ত জানিয়েছেন, গঙ্গাস্নান সম্ভব না হলেও গঙ্গাজল পান করে ও জল ছিটিয়ে ধর্মীয় আচার পালনের চেষ্টা করবেন।
অন্যদিকে, জল কমে যাওয়ায় ঘাটের শুকনো অংশে নেমে পড়েছেন অনেকে। গঙ্গায় ভক্তদের ছুড়ে দেওয়া কয়েন, টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজতে দেখা যাচ্ছে তাঁদের। সাধারণত জলের মধ্যে নেমে এই সামগ্রী খোঁজা হলেও, জল কম থাকায় এখন শুকনো অংশেও চলছে সেই তল্লাশি।
দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের পানীয় জল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস গঙ্গা খাল। প্রতি বছর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির জন্য নির্দিষ্ট সময় খালটি বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের অর্ধকুম্ভ মেলাকে সামনে রেখে হরিদ্বারে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত কাজও চলছে। তবে আপাতত গঙ্গাস্নানের আশায় আসা পুণ্যার্থীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে জলপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার জন্য।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







