বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের জন্য কি বড় সতর্কবার্তা? একসময় ঢাকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ভারত। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বদলেছে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণ। আর তারই প্রভাব পড়ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যেও। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে আমেরিকার পিছনে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে ভারত। শীর্ষস্থান অবশ্য এখনও চিনের দখলে।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার। ভারতের সঙ্গে সেই অঙ্ক প্রায় ১ হাজার ৭২ কোটি ডলার। অর্থাৎ বাণিজ্যের পরিমাণে আমেরিকা এবার ভারতকে পিছনে ফেলেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, এই সময়ে বাংলাদেশে আমেরিকার রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ। অন্যদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানিও কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির পর বাংলাদেশি পণ্যে আমেরিকার শুল্ক ১৯ শতাংশে নামানোর কথা জানানো হয়। পাশাপাশি আমেরিকা থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি, বিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার একাধিক অঙ্গীকারও করেছে ঢাকা।
ফলে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতিও কিছুটা কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ আমেরিকায় প্রায় ৯১১ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, বিপরীতে আমদানি করেছে প্রায় ৩৫৬ কোটি ডলারের পণ্য।
অন্যদিকে, ভৌগোলিকভাবে কাছের দেশ হওয়ায় পরিবহণ খরচ এবং সময় কম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের উপর নির্ভর করেছে বাংলাদেশ। তুলো, সুতো, খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও জ্বালানির মতো বহু পণ্য ভারত থেকে আমদানি করা হত। কিন্তু সাম্প্রতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে সেই বাণিজ্যিক নির্ভরতা কতটা বদলাচ্ছে, বাংলাদেশের এই পরিসংখ্যান সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে আনছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







