পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু! আর এই অভিযোগ ঘিরেই বাখরাহাটে ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। মৃতের পরিবারের দাবি, পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে পালান রায়কে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছিল। আর তার জেরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। যদিও পুলিশের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মৃতের নাম পালান রায়। তিনি স্থানীয় জয়চণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে অভিযোগ, সোমবার দুপুরে পালানকে গ্রেফতার করে বাখরাহাট ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, ফাঁড়ির ভিতরেই তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করা হয়। এমনকি মারধরের পর ফাঁড়ির মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ পরিবারের।
যদিও পুলিশের বক্তব্য, বাখরাহাট ফাঁড়িতে নিয়ে আসার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন পালান রায়। এরপর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে পুলিশ গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অভিযোগকারী বিজয় সিংহ এবং মৃত পালান রায়—দু’জনেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে দাবি। পাশাপাশি, পালান রায়ের প্রায় তিন বছর আগে বুকে স্টেন্ট বসানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
তবে পুলিশের এই বক্তব্য মানতে নারাজ মৃতের পরিবার। তাঁদের দাবি, পালান সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পুলিশের হেফাজতে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই তাঁর উপর নির্যাতন করা হয়। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তাঁরা পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাখরাহাট মোড়ে জড়ো হয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বাখরাহাট-ঠাকুরপুকুর রোড অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা।
এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয় তীব্র উত্তেজনা।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ঠিক কী কারণে মৃত্যু হল পালান রায়ের? পুলিশের হেফাজতে কি সত্যিই কোনও নির্যাতন হয়েছিল, নাকি অসুস্থতার কারণেই মৃত্যু? সেই উত্তর মিলবে তদন্তের পরেই।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







