দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সাফ বক্তব্য, পুজোর সময় বাঙালি কী খাবেন, তা ঠিক করার অধিকার বাইরের কোনও সাধু বা রাজনৈতিক দলের নেই। নিজের খাবার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বাংলার মানুষই।
সম্প্রতি বাংলায় এসে বাগেশ্বর বাবা দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপের আশপাশে মাছ-মাংসসহ আমিষ খাবার এড়িয়ে চলার আবেদন জানিয়েছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা ধরনের বিতর্ক। এবার সেই প্রসঙ্গেই মন্তব্য করলেন শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক জানান, বাগেশ্বর বাবা একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর বহু ভক্ত রয়েছেন। এমনকি তিনিও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে জানান। কিন্তু তাঁর বক্তব্য, বাগেশ্বর বাবা নিজের মতামত জানাতেই পারেন, তবে সেই মতামত মানা হবে কি না, সেটা সম্পূর্ণ বাংলার মানুষের বিষয়।
শমীকের কথায়, “নবমীতে বাঙালি পাঁঠার মাংস খায়। আর অষ্টমীতে লুচি খায়। সেইটাই খাবে।” তাঁর দাবি, বাঙালির দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাঙালিরই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকেই নিরামিষ খাবারের পক্ষে প্রচার করছেন, এমনকি চিকিৎসকরাও স্বাস্থ্যগত কারণে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু কোনও সাধু কিংবা রাজনৈতিক দল কারও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করতে পারে না বলেই তাঁর মত।
এই প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের নামও টেনে আনেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে খাবারের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। এমনকি তিনি বলেন, “বিবেকানন্দ বলে গেছেন, তার উপরে কে আছেন?”
তবে একইসঙ্গে শমীক স্পষ্ট করে দেন, বাগেশ্বর বাবা কোনও নির্দেশ দেননি, তিনি শুধুই আবেদন করেছেন। সেই আবেদন গ্রহণ করবেন কি না, শেষ সিদ্ধান্ত বাংলার মানুষেরই।
অর্থাৎ, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিজেপির রাজ্য সভাপতির বার্তা—বাঙালির খাবারের সিদ্ধান্ত বাঙালিই নেবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







