পাকিস্তান এখন গভীর সংকটে। একদিকে পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) নিয়ে অস্থিরতা, অন্যদিকে বালোচিস্তানে দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ। এর পাশাপাশি রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন। সৌদি ও তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি, ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিদেশনীতি কিছুটা সক্রিয় হলেও দেশের অভ্যন্তরের পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে অস্থিরতা চলছে। বালোচিস্তানের পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়ায় উপজাতীয় বিদ্রোহ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ভূমিকা নিয়েও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় বালোচিস্তান। দেশের প্রায় ৪৪ শতাংশ এলাকা এই প্রদেশের অন্তর্গত। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই বালোচিস্তানে একাধিকবার বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। ১৯৫৮-৫৯, ১৯৬৩-৬৯ এবং ১৯৭৩-৭৭ সালে সশস্ত্র আন্দোলনের পর ২০০০ সালে বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) গঠনের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালের পর থেকে সেই বিদ্রোহ আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়। পাক সেনার বিরুদ্ধে গেরিলা হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে বিএলএর বিরুদ্ধে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৫ সালে তারা ৫২১টির বেশি হামলা চালিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বালোচিস্তানে ৭৬৫টির বেশি হিংসাত্মক ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে বলেও বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বালোচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিও নতুন করে জোরালো হয়েছে। ১১ অগস্টকে বালোচদের একাংশ স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করেছে বলেও জানা গিয়েছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







