চলতি বিশ্বকাপে একদিকে যখন লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক ও কিলিয়ান এমবাপে দুই ম্যাচে ৪ গোল করে শিরোনাম কেড়ে নিয়েছেন, ঠিক তখনই বিশ্বমঞ্চে স্বমহিমায় ফিরলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। প্রথম ম্যাচ ড্র হওয়ার পর প্রবল চাপে থাকা পর্তুগাল শিবিরকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন সিআর সেভেন (CR7)। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই গোল পেতে মরিয়া পর্তুগাল এদিন ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে, যার মূল কাণ্ডারি ছিলেন দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সম্ভবত নিজের কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা রোনাল্ডোকে এই ম্যাচে প্রথম একাদশে রাখা হবে কি না, তা নিয়ে ফুটবল মহলে বিস্তর জল্পনা চলছিল। তবে ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ডান দিক থেকে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রসে প্রথম টাচেই দর্শনীয় শটে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন এবং এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের খাতা খোলেন ক্রিশ্চিয়ানো।
ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগিজ আক্রমণভাগের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় উজবেক রক্ষণভাগ। ব্রুনো ফার্নান্দেজের একটি নিশ্চিত শট উজবেক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ধরে রাখে পর্তুগাল। দলের তৃতীয় গোলের ক্ষেত্রে ব্রুনো ফার্নান্দেজ উজবেকিস্তানের ফাইনাল থার্ডে ঢুকে ডানদিকে রোনাল্ডোর উদ্দেশ্যে একটি দুর্দান্ত থ্রু বল বাড়িয়ে দেন। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে উজবেক গোলরক্ষক নেমাতোভকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন সিআর সেভেন। অন্যদিকে, পর্তুগালের দ্বিতীয় গোলটি ছিল তাঁদের দুর্দান্ত দলীয় সংহতি ও রণকৌশলের ফসল। পেদ্রো নেতোকে পেনাল্টি বক্সের ঠিক সামনে ফাউল করায় ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল। মাঠের সকলেই যখন ভাবছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো সরাসরি শট নেবেন, তখনই সেই ফাঁদকে কাজে লাগিয়ে অধিনায়কের পরিবর্তে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করে যান নুনো মেন্দেস। অতীতে বহু প্রাক্তন ফুটবলার রোনাল্ডোকে স্বার্থপর আখ্যা দিলেও, এদিন সতীর্থদের গোল করার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে এবং ক্যাপ্টেনের মতো খেলা পরিচালনা করে সমালোচকদের মুখে যোগ্য জবাব দিলেন সিআর সেভেন।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







