কলকাতা, ১ জুন: দীর্ঘ গরমের ছুটির অবসান ঘটিয়ে আজ, সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে খুলল সমস্ত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল এবং মাদ্রাসা। আর প্রথম দিনেই রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে ধরা পড়ল এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন চিত্র। শিক্ষা দফতরের নতুন নির্দেশিকা মেনে চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রথম কর্মদিবস অর্থাৎ আজ থেকেই রাজ্যের সমস্ত বিদ্যালয়ের দৈনিক প্রার্থনা সভায় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে গাওয়া শুরু হলো ভারতের জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’। প্রথম দিনেই রাজ্যের কোণায় কোণায় স্কুলপড়ুয়াদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের এই কালজয়ী আবেগে ভাসলেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।
প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে পঠন-পাঠন শুরুর আগে প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গানটি সম্পূর্ণ গাইতে হবে। তবে দীর্ঘ ৫টি স্তবকের এই মূল গানটি গাইতে সময় লাগে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। অন্যদিকে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা ৫২ সেকেন্ড। অর্থাৎ এই দুটি গান গায়তেই প্রাতিষ্ঠানিক সময় লাগবে ৪ মিনিট ২ সেকেন্ড। এর বাইরেও অনেক স্কুলে নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী প্রার্থনা সঙ্গীত বা মন্ত্রোচ্চারণের চল রয়েছে। সব মিলিয়ে সামগ্রিক প্রার্থনা সভার সময়সীমা এবার থেকে ১০ মিনিট বা তার কিছু বেশি স্থায়ী হতে পারে।
পুরো গান গাওয়া নিয়ে শিক্ষকদের আর্জি, অনড় শিক্ষা দফতর:
শিক্ষকদের একাংশের মতে, গানটি দীর্ঘ হওয়ায় এবং ভাষার জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে পড়ুয়াদের পুরো গানটি গাইতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। সেই কারণে শিক্ষক সংগঠনগুলির তরফে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবক বা পংক্তি গাওয়ার ছাড়পত্র চেয়ে নবান্ন ও শিক্ষা দপ্তরে আর্জি জানানো হয়েছিল। তবে শিক্ষা দফতর সেই আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনও কাটছাঁট নয়, বরং মূল গানের সম্পূর্ণ রূপটিই শিক্ষার্থীদের গাইতে হবে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে শিক্ষকেরা এক অভিনব ও আধুনিক পন্থা অবলম্বন করেছেন। বহু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, গরমের ছুটি চলাকালীনই অনলাইনের মাধ্যমে পড়ুয়াদের এই গানটি রপ্ত করে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রথম দিনে দেখা যায়, অনেক ছোট পড়ুয়ারই পুরো গানটি এখনও সম্পূর্ণ মুখস্থ হয়নি। তাই তাদের সুর ও উচ্চারণ ঠিক করতে প্রথম কয়েকদিন স্কুলের সাউন্ড বক্সে বা মোবাইলে মূল গানটি বাজানো হচ্ছে এবং শিক্ষকেরা তা শুনে শিক্ষার্থীদের অনুশীলনে সাহায্য করছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের গানটি সম্পূর্ণ মুখস্থ হয়ে গেলে এই অডিও বাজানো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সমস্ত মাদ্রাসাতেও বাজল ‘বন্দে মাতরম’:
রাজ্যের স্কুলগুলির পাশাপাশি সমান্তরালভাবে আজ সোমবার থেকে খুলেছে সমস্ত সরকারি অনুমোদিত মাদ্রাসাও। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে প্রতিটি মাদ্রাসাতেও আজ প্রার্থনা সভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ানো হয়। মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন সমিতির একাংশের মতে, প্রথম দুটি পংক্তি গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ব্যবহারিক বা ভাষাগত অসুবিধা না থাকলেও, বাকি স্তবকগুলি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন। তাই মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের গানটি সহজে রপ্ত করানোর সুবিধার্থে সকাল থেকেই সাউন্ড বক্সের মাধ্যমে সুর মিলিয়ে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষা দফতরের এই নয়া নিয়মের জেরে প্রথম দিনেই রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এক ভিন্নধর্মী শৃঙ্খল ও জাতীয়তাবাদী আবহের সূচনা হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







