পুজোর আগে শিলিগুড়িতে দোকানদারের ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক। ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর তরফে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানো হয়েছে। সেখানে হিন্দুদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, বিরিয়ানি ও দশকর্মার সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে হিন্দু দোকানদারদের অগ্রাধিকার দিতে। কোথাও আবার ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে কেনাকাটার বিষয়েও ভাবনাচিন্তার আবেদন জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সদস্য অভিষেক দাসের দাবি, এটি কোনও নির্দেশ বা ফতোয়া নয়, বরং সামাজিক বার্তা। তাঁর বক্তব্য, সমাজকে সচেতন করতেই শিলিগুড়িজুড়ে এই পোস্টার ও ব্যানার লাগানো হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, কেনাকাটার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার এই আবেদন সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণার সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে।
এই প্রচার নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বামপন্থী নেতারাও। সিপিএম নেতা ইন্দ্রজিৎ চন্দের বক্তব্য, সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে; পেশা বা ব্যবসার ক্ষেত্রে ধর্মকে মাপকাঠি করা উচিত নয়। সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ও এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
বাংলার সংস্কৃতিতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক আদানপ্রদান দীর্ঘদিনের। বিরিয়ানি থেকে দশকর্মার সামগ্রী—বিভিন্ন পেশায় বহু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পুজোর মুখে শিলিগুড়ির এই পোস্টার ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, ব্যক্তিগত পছন্দ ও ব্যবসায়িক লেনদেনে ধর্মীয় পরিচয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







