নাবালিকার গর্ভধারণ এবং বাল্যবিবাহ—দুই ক্ষেত্রেই বাংলার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এবার এই সমস্যার কথা স্বীকার করেই বাল্যবিবাহ রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পরিসংখ্যান অনুযায়ী নাবালিকার গর্ভধারণ এবং বাল্যবিবাহ—দুই ক্ষেত্রেই দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। পরিস্থিতি বদলাতে এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে রাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সি গর্ভবতী নাবালিকার যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে সংখ্যাটি ১২ হাজার ৮৪৭। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং তৃতীয় স্থানে পূর্ব বর্ধমান।
বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে এবার প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাবালিকা বধূ বা নাবালিকা মায়ের স্বামীদের কাছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে নোটিস পাঠানো হবে। সেখানে স্ত্রীর বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি—এই বিষয়টি প্রমাণ করতে বলা হবে। বয়সের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাল্যবিবাহে কী শাস্তির বিধান রয়েছে?
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে বাল্যবিবাহে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে। বাল্যবিবাহের আয়োজন বা সহায়তা করার ক্ষেত্রেও শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। বাবা-মা বা অভিভাবক বাল্যবিবাহে উৎসাহ দিলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
পাশাপাশি, ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে POCSO আইন প্রযোজ্য হতে পারে। পরিস্থিতি ও অপরাধের ধরন অনুযায়ী কঠোর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
নাবালিকার গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের ঘটনা সামনে এলে তা নিয়ে আইন অনুযায়ী রিপোর্টিং ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, বাল্যবিবাহকে আর কোনওভাবেই সামাজিক প্রথা হিসেবে ছেড়ে দিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। এবার নজরদারি থেকে শুরু করে বাড়ি বাড়ি অভিযান—প্রশাসনিক স্তরে আরও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







