নয়াদিল্লি, ২৯ জুন: করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দফতরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের তোলা মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ সপাটে উড়িয়ে দিল ভারত। রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, পাকিস্তানের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহানুভূতি কুড়াতে অন্যের দিকে আঙুল তোলার পুরনো অভ্যাস ত্যাগ করে পাকিস্তানকে বরং নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয়ভাবে গজিয়ে ওঠা জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করার স্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছে দিল্লি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে করাচি হামলা প্রসঙ্গে অবৈজ্ঞানিক ভারত-বিরোধী প্রচারের তীব্র বিরোধিতা করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানান, করাচির সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরুদ্ধে যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হয়েছে, নতুন দিল্লি তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন যে, পাকিস্তানের উচিত অন্য কোনও দেশের দিকে আঙুল না তুলে আগে নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। নিজেদের দেশের মাটিতে লালিত-পালিত হওয়া সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের উচিত অবিলম্বে বিশ্বাসযোগ্য ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করার বিপজ্জনক প্রবণতা থেকে সম্পূর্ণ সরে আসা।
শনিবার সন্ধ্যায় করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের ভিট্টাই উইং সদর দফতরে আচমকাই ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল জঙ্গি অতর্কিত হামলা চালায়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি দিয়ে সদর দফতরের মূল ফটকটি ভেঙে সজোরে ভেতরে প্রবেশ করে এবং তারপরে ভেতরে থাকা ব্যারাক ও চত্বর লক্ষ্য করে একের পর এক গ্রেনেড ছুড়ে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পাকিস্তানের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ওই এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং এর পর প্রায় ৯০ মিনিট ধরে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই চলে। পরবর্তীতে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট এবং অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্স এই বিশেষ অভিযানে যোগ দেয়।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, এই অপারেশন শেষে মোট ছয়জন জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং গুরুতর জখম অবস্থায় এক জঙ্গিকে জীবিত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তবে জঙ্গিদের এই আত্মঘাতী হামলায় সিন্ধ রেঞ্জার্সের চারজন জওয়ানও প্রাণ হারিয়েছেন। এই অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও গোয়েন্দা গাফিলতি ঢাকতেই পাকিস্তান বরাবরের মতো কোনও প্রমাণ ছাড়াই ভারতের দিকে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে, যাকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তীব্র কটাক্ষ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519






