শেষ পর্যন্ত কোনও শিবিরেরই জয় নয়, আবার পরাজয়ও নয়! দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক—দুটিই অন্তর্বর্তীভাবে ফ্রিজ করল নির্বাচন কমিশন। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে আর ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা পুরনো প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই শিবিরকেই নিজেদের জন্য নতুন নাম এবং নতুন প্রতীক বেছে নিতে হবে। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তিনটি করে নাম এবং তিনটি করে মুক্ত প্রতীকের পছন্দ কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর কমিশন প্রতিটি শিবিরের জন্য একটি নাম ও একটি প্রতীক বরাদ্দ করবে। এই ব্যবস্থা আপাতত আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেই কার্যকর থাকবে।
অর্থাৎ, এতদিন তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকা ‘জোড়াফুল’ এবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটে দেখা যাবে না। দুই শিবিরকেই কার্যত নতুন পরিচয় নিয়ে ভোটারদের সামনে যেতে হবে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কমিশনের নির্দেশে আইনগত একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এই নির্দেশ তাঁরা মেনে নিচ্ছেন না এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক আখরুজ্জামান কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সময় কম থাকায় কমিশনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে জোড়াফুল প্রতীক তাঁদের শিবিরের কাছেই থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।
তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দলীয় নাম ও প্রতীকের দাবির নিষ্পত্তি নিয়ে পরবর্তী প্রক্রিয়া চলবে। আপাতত দুই শিবিরকে সমান অবস্থানে রেখে আসন্ন উপনির্বাচন পরিচালনার জন্যই এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা।
ফলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মমতা শিবিরের নতুন নাম কী হবে, ঋতব্রত শিবিরই বা কোন প্রতীক বেছে নেবে? জোড়াফুল ছাড়া নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটে তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই এখন কোন নতুন পরিচয়ে হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







