মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার আরও স্পর্শকাতর জায়গায় পৌঁছেছে। হাউথি হামলার আশঙ্কায় মক্কা, জেদ্দা এবং তায়েফে জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরব। ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি সিভিল ডিফেন্সের তরফে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে এবং সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই মক্কা-সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিপদ কেটে গিয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
এরপর পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, মঙ্গলবার মক্কার দক্ষিণে একটি হাউথি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই প্রতিহত করা হয়। মক্কার নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই দাবির পাল্টা বক্তব্যও এসেছে হাউথিদের তরফে। তাদের দাবি, মক্কা বা কোনও ইসলামি পবিত্র স্থানে হামলার কোনও হুমকি তারা দেয়নি। ফলে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
এদিকে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূল এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ঘিরে উত্তেজনাও বেড়েছে। হাউথিদের হামলা এবং পাল্টা সৌদি সামরিক অভিযানের জেরে বাব-আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরের নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রশ্নও।
অন্যদিকে, পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের সদ্য স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের কোনও একটির উপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে পাকিস্তান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হাউথি হামলার প্রেক্ষিতে ওই চুক্তির আওতায় কোনও সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়নি।
ফলে মক্কার আকাশে আপাতত সরাসরি হামলার আশঙ্কা কেটে গেলেও, হাউথি-সৌদি সংঘাতের নতুন মাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







