হুগলী ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে এবার হেরিটেজ ট্যুরিজমের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ ও ফ্রান্স। একসময় ফরাসিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল চন্দননগর। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সামনে রেখেই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গোটা অঞ্চলকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ।
শুধু চন্দননগর নয়, হুগলি নদীর দুই তীরে ছড়িয়ে রয়েছে ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর। ডাচদের চুঁচুড়া, পর্তুগিজদের ব্যান্ডেল, ডেনিসদের শ্রীরামপুর এবং ব্রিটিশদের ব্যারাকপুর—প্রতিটি জায়গার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে বাংলার ইতিহাস। পর্যটন দফতরের পরিকল্পনায় এই ঐতিহাসিক স্থানগুলিকেও হেরিটেজ ট্যুরিজমের আওতায় আনার ভাবনা রয়েছে।
এরই মধ্যে ফরাসি আমলে তৈরি ঐতিহাসিক ‘দ্য রেজিস্ট্রি বিল্ডিং’ সংস্কার করে তার পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন দফতর জানিয়েছে, ফ্রান্স সরকারের ব্যবস্থাপনায় এই ঐতিহাসিক ভবনের রেনোভেশনের কাজ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দফতর।
এই লক্ষ্যেই ফ্রান্সের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে রাজ্য পর্যটন দফতর। শুক্রবার চন্দননগরে শুরু হয়েছে তিনদিনের বর্ণাঢ্য ফরাসি উৎসব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং ভারতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়েরিঁ ম্যাথু।
রাষ্ট্রদূত জানান, ভারত ও ফ্রান্সের পাশাপাশি বাংলার সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। তাঁর আশা, ভবিষ্যতে আরও বেশি ফরাসি পর্যটক, গবেষক ও ঐতিহাসিক বাংলায় আসবেন। আগামী বছর থেকে প্রতি বছর চন্দননগরে ফরাসি উৎসব আয়োজনের প্রস্তাবও তিনি দিয়েছেন।
পাশাপাশি কলকাতায় ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে কলকাতা-ফ্রান্স সরাসরি পরিষেবার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।
পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষও বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ফলে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পর্যটনকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে হুগলী-চন্দননগরকে আন্তর্জাতিক হেরিটেজ পর্যটনের মানচিত্রে তুলে ধরাই এখন লক্ষ্য।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







