মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়েও দীর্ঘদিন দেখা করার সুযোগ পাননি। আর শেষ পর্যন্ত মায়ের মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টার জন্য মুক্তি পেলেন বাংলাদেশে বন্দি হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি ‘চিন্ময় প্রভু’ নামেও পরিচিত।
পরিবারের তরফে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর জামিনের আবেদন করা হয়েছিল বলে দাবি। অসুস্থ মাকে একবার দেখার জন্যও আবেদন জানিয়েছিলেন চিন্ময় প্রভু। কিন্তু সেই সুযোগ মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের। বৃহস্পতিবার সকালে আসে মায়ের মৃত্যুর খবর। এরপর কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে।
জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি মায়ের শেষকৃত্যের আগে তাঁকে দেখতে যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান চিন্ময় প্রভু। সেই মুহূর্তে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনও। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, মৃত্যুর আগে একজন মা তাঁর ছেলেকে একবার দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, একজন মৃত্যুপথযাত্রী মায়ের এই ইচ্ছা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মানবিক।
তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য, শেষ সময়ে সন্তানকে একবার কাছে পাওয়ার ইচ্ছাটুকুও পূরণ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, পরিবর্তিত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বলা হলেও বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে মানবিকতার প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
মায়ের মৃত্যুর পর অবশেষে কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও ছেলের সঙ্গে মায়ের শেষ দেখা হল। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ হল জীবনের শেষ প্রান্তে, যখন আর কোনও কথোপকথনের সুযোগ নেই। এই ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এনেছে চিন্ময় প্রভুর মামলা এবং তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







