বারমুডা ট্রায়াঙ্গল—নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে রহস্য, নিখোঁজ জাহাজ আর হারিয়ে যাওয়া বিমানের নানা কাহিনি। উত্তর আটলান্টিকের এই অঞ্চলকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে নানা তত্ত্ব সামনে এলেও রহস্যের পুরোপুরি সমাধান এখনও হয়নি। আর এবার সেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ঘিরেই সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি।
দাবি, বারমুডার কাছেই সমুদ্রের গভীরে রয়েছে কোনও এক সুপ্রাচীন শহরের ধ্বংসাবশেষ! এমনই দাবি করেছেন স্বঘোষিত ইউএফও বিশেষজ্ঞ স্কট সি ওয়ারিং। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে রহস্যপ্রেমীদের মধ্যে।
কিন্তু কী দেখে এমন দাবি করলেন ওয়ারিং? আসলে বর্তমানে গোটা বিশ্বের সমুদ্রতলের একটি বিশাল অনলাইন মানচিত্র তৈরির কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই মানচিত্র তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। সেই মানচিত্র নিয়েই গবেষণা করতে গিয়ে বারমুডার কাছাকাছি একটি অদ্ভুত গঠন দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন ওয়ারিং।
একটি ইউটিউব ভিডিওতে তিনি জানান, সমুদ্রতলের ওই এলাকায় বেশ কিছু অস্পষ্ট, প্রায় সমান্তরাল এবং পরস্পরকে ছেদ করা রেখার মতো আকৃতি দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, এই জ্যামিতিক নকশাগুলি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। বরং এগুলির মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা দেখে মনে হতে পারে মানুষের বুদ্ধি ও পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে কোনও কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।
সেখান থেকেই উঠছে প্রশ্ন—তাহলে কি সত্যিই সমুদ্রের তলায় কোনও প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন লুকিয়ে রয়েছে? নাকি সমুদ্রতলের প্রাকৃতিক গঠনকেই ভুলভাবে শহরের ধ্বংসাবশেষ বলে মনে হয়েছে?
তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এখনও পর্যন্ত কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক বা সমুদ্রবিজ্ঞানী ওয়ারিংয়ের এই দাবিকে সমর্থন করেননি। আবার তাঁর দাবিকে সরাসরি খারিজও করা হয়নি। অর্থাৎ আপাতত এটি তাঁর নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা হিসেবেই সামনে এসেছে।
তাই বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের রহস্যের তালিকায় নতুন এই ‘হারিয়ে যাওয়া শহর’-এর গল্প যোগ হলেও, সত্যিই সমুদ্রের নীচে কোনও প্রাচীন নগরীর অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তার উত্তর পেতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রমাণের অপেক্ষা করতেই হবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







