শহরের হোটেল-গেস্ট হাউসগুলিতে এবার বড়সড় অভিযান। সম্প্রতি নিউ মার্কেট এলাকার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরই নড়েচড়ে বসেছিল নবান্ন। শহরের বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে শুরু হয়েছিল সরেজমিন তদন্ত। আর সেই তদন্তেই সামনে এল বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ।
অগ্নিসুরক্ষা বিধি না মানার অভিযোগে এবার শহরের ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স রদ করার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য প্রশাসন। আপাতত এই হোটেল-গেস্ট হাউসগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। শহরের ১৬টি ব্যুরোর আওতাধীন হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিতে অভিযান চালায় সেই কমিটি। মোট ৯৬২টি হোটেল-গেস্ট হাউসে পরিদর্শনের পর রিপোর্ট জমা দেওয়া হয় নবান্নে।
সেই রিপোর্টেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ৯৬২টির মধ্যে ৯১৯টি হোটেল-গেস্ট হাউসে অগ্নিসুরক্ষা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ওই প্রতিষ্ঠানগুলির লাইসেন্স রদ করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য প্রশাসন।
পাশাপাশি দমকল দফতরের শীর্ষস্তরেও পরিবর্তন করা হয়েছে। দমকলের প্রধান সচিব পদে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন ওঙ্কার সিং মীনা।
কেন এত কড়া পদক্ষেপ? তার নেপথ্যে রয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। আগস্ট মাসে নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনের একটি আবাসিক হোটেলে রাত প্রায় পৌনে দুটো নাগাদ আগুন লাগে।
দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি হোটেলের ঘরগুলিতে ঘন ধোঁয়া জমে যায়। আতঙ্কে হোটেলের বাসিন্দাদের মধ্যে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। ধোঁয়ার কারণে অনেকেই বেরোতে সমস্যায় পড়েন।
ভোররাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হোটেল থেকে একে একে ৮০ জনকে উদ্ধার করে। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়, যাঁদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। ঘটনায় আরও ৬ জন আহত হন।
এই ঘটনার পরই প্রশ্ন ওঠে শহরের হোটেলগুলিতে আদৌ কতটা মানা হচ্ছে অগ্নিসুরক্ষা বিধি। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুরু হয় প্রশাসনিক অভিযান। আর রিপোর্ট হাতে আসতেই এবার একসঙ্গে ৯১৯টি হোটেল-গেস্ট হাউসের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ।
একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার শহরের হোটেলগুলিতে ‘সেফটি অডিট’-এর কড়া বার্তা—নিরাপত্তা বিধি না মানলে কোনও ছাড় নয়, স্পষ্ট নবান্নের অবস্থান।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







