পুজোর আগে চা শ্রমিকদের জন্য বড় সুখবর। ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। পুজোর মুখে এই ঘোষণায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগানে খুশির হাওয়া। প্রতিবছর পুজোর আগে বোনাসের দাবিতে আন্দোলন, গেট মিটিং, বিক্ষোভ কিংবা রাস্তা অবরোধের ছবি দেখা যেত ডুয়ার্সের চা-বাগানগুলিতে। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিতে যেন বদল।
মঙ্গলবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার কালিম্পঙে নামতে পারেনি। এরপর উত্তরকন্যা থেকেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই বৈঠক থেকেই চা শ্রমিকদের জন্য আসে এই সুখবর।
প্রশাসন সূত্রে খবর, পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স মিলিয়ে উত্তরবঙ্গে প্রায় ২৭৫টি চা-বাগান রয়েছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা তিন লক্ষেরও বেশি। তাঁদের জন্য ২০ শতাংশ হারে বোনাস প্রদানের অ্যাডভাইজরি ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রতি বছর পুজোর আগে বোনাসের দাবিতে চা শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার ছবি কার্যত পরিচিত হয়ে উঠেছিল। কোথাও গেট মিটিং, কোথাও বিক্ষোভ, আবার কোথাও রাস্তা অবরোধ করে দাবি জানাতেন শ্রমিকরা। এমনকী, বোনাস ঘোষণা হওয়ার পরেও মালিকপক্ষের তরফে টালবাহানার অভিযোগ উঠত বলে দাবি শ্রমিকদের।
কিন্তু এবার পুজোর বেশ কিছুটা আগেই ২০ শতাংশ বোনাস ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে শ্রমিক মহলে। জলপাইগুড়ি জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৯০টি চা-বাগান রয়েছে। ফলে এই ঘোষণার সরাসরি প্রভাব পড়বে জেলার বিপুল সংখ্যক চা শ্রমিক পরিবারের উপর।
চা শ্রমিকদের কাছে পুজোর বোনাস শুধু উৎসবের আনন্দ নয়, সংসারের একাধিক প্রয়োজন মেটানোর গুরুত্বপূর্ণ ভরসা। বোনাসের টাকা হাতে এলে সন্তানদের নতুন পোশাক, পরিবারের পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে কয়েকদিনের ভালো-মন্দ খাবারের ব্যবস্থা—সবই করতে পারেন তাঁরা।
অনেকের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের প্রয়োজন থাকলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। বোনাসের টাকা হাতে পেয়ে পুজোর আগেই সেই কাজ সেরে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বহু পরিবারের।
ফলে পুজোর আগে ২০ শতাংশ বোনাসের ঘোষণায় এবার আন্দোলনের বদলে অনেকটাই স্বস্তির ছবি চা-বাগানগুলিতে। উৎসবের মরশুমে হাতে অতিরিক্ত টাকা—চা শ্রমিক পরিবারগুলির কাছে এবার পুজোর আনন্দ যেন আরও একটু বেশি।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







