প্রকৃতির একের পর এক বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত নেপাল। ভয়াবহ হড়পা বান ও পাহাড়ি ধসের পর এবার নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে চিনে হওয়া শক্তিশালী ভূমিকম্পকে ঘিরে। শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের সিচুয়ান অঞ্চলে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বিস্তীর্ণ এলাকা। এর পরেই তিব্বত সংলগ্ন এলাকায় হিমবাহের জেরে তৈরি একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। ফলে উত্তর নেপালে ফের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার চিনের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে এবং ভারতীয় সময় অনুযায়ী সকাল ১০টা ৪৩ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মাটি থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার গভীরে। এখনও পর্যন্ত এই কম্পনে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে ভূমিকম্পের পরই তিব্বত এলাকায় হিমবাহের জেরে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর জেরে উত্তর নেপালের বেশ কিছু এলাকায় দ্রুত জল নেমে আসার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও এই হ্রদের বাঁধ ভূমিকম্পের জেরেই ভেঙেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর তৈরি হওয়া অস্থায়ী হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমে যাওয়ার ফলেও বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।
এর আগেই নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আরও একটি হিমবাহ হ্রদ নিয়ে সতর্ক করেছিল চিন। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে তৈরি হওয়া হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। আগামী কয়েক দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল।
ফলে হ্রদের উপর জলের চাপ ক্রমশ বাড়লে যে কোনও সময় বাঁধ ভেঙে বিপুল জলরাশি নেমে আসতে পারে। আর সেই জলরাশি নেপালের নদী ও উপত্যকা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
ইতিমধ্যেই নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ নিখোঁজ। তার মধ্যেই চিনে ভূমিকম্প এবং তিব্বতে হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভাঙার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে নেপালের উপর থেকে প্রকৃতির রোষ যেন এখনও কাটছে না।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







