best news portal development company in india

নেপাল বিপর্যয় ঘিরে নেপাল-চিন সম্পর্কে চিড়? পরস্পরকে দোষারোপ, বাড়ছে উত্তেজনা

SHARE:

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানকে কেন্দ্র করে এবার কি নেপাল ও চিনের সম্পর্কে চিড় ধরতে চলেছে? ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বুধবারের ভয়ঙ্কর দুর্যোগের পরই এই বিপর্যয়ের জন্য চিনের দিকে আঙুল তুলেছিল নেপাল। অভিযোগ ছিল, চিনের একটি বাঁধ ভেঙে পড়ার কারণেই বিপুল জলরাশি নেমে এসে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিপদের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বেজিং কাঠমান্ডুকে আগাম সতর্ক করেনি বলেও অভিযোগ ওঠে।

তবে নেপালের সেই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে চিন। বৃহস্পতিবার চিনের তরফে জানানো হয়, নেপালের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। এমনকী, এই সংক্রান্ত খবরকে ‘ভুয়ো’ বলেও দাবি করেছে বেজিং। নেপালে অবস্থিত চিনা দূতাবাস সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছিল নেপালের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকেই। চিনের দাবি, বুধবার সকালে নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিকম্প অথবা হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। তার ফলেই কাদা ও জলের স্রোত নেমে আসে এবং নেপাল ও চিনের সীমান্তবর্তী গিরং-রাসুওয়াগাধি এলাকায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।

চিনের স্পষ্ট বার্তা, এই পরিস্থিতিতে একে অপরকে দোষারোপ করে কোনও লাভ নেই, বরং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, বিপর্যয়ের আগে কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, আর বিপুল জলরাশি ঠিক কীভাবে তৈরি হল?

এদিকে, নেপালের বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস-এর বিশ্লেষণে। প্রথমে তারা জানিয়েছিল, কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার উত্তরে নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী বিশ্লেষণে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ইউএসজিএস জানায়, কম্পনের মূল কারণ ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহ ধস। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে ৫.২ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়।

ভূকম্পন পরিমাপক কেন্দ্রের তথ্য, ভূ-কম্পন তরঙ্গ এবং উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে মার্কিন সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশাল পরিমাণ বরফ ও পাথর হিমবাহ থেকে নিচের দিকে নেমে আসার ফলেই মুহূর্তের মধ্যে বিপুল জলরাশির সৃষ্টি হয়। পাহাড়ি নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে বরফ, কাদা ও পাথর মিশে ভয়াবহ হড়পা বানের আকার নেয়।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, হিমবাহ ধসই এই বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে চিনের কোনও বাঁধ ভেঙে এই বিপর্যয় ঘটেছে কি না, সেই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে এই মতবিরোধের মধ্যেই নেপাল-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে কাঠমান্ডুর অভিযোগ, অন্যদিকে বেজিংয়ের পাল্টা দাবি—সব মিলিয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর এবার কূটনৈতিক টানাপোড়েনও কি আরও বাড়তে চলেছে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *