রাজনীতি শুধু বদলে দেয় সমাজের ছবি নয়, তার প্রভাব পড়ে পরিবারেও। দুই প্রজন্মের দুই পুরুষ—বাবা ও ছেলের রাজনৈতিক আদর্শের সংঘাতকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’। মুক্তি পেল ছবির ট্রেলার। ট্রেলার প্রকাশ্যে আসতেই ছবির গল্প এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’-এর পটভূমি প্রায় ১৫ বছর আগের বাংলা। সেই সময় রাজ্যে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের অবসান ঘটছে, ক্ষমতায় আসছে তৃণমূল সরকার। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের সেই সময়কেই গল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে তুলে ধরেছেন সৃজিত।
ছবির মূল আকর্ষণ বাবা-ছেলের সম্পর্ক এবং তাঁদের সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ। ঋত্বিক চক্রবর্তী অভিনীত সব্যসাচী একজন একনিষ্ঠ কমরেড। অন্যদিকে তাঁর ছেলে ইন্দ্রের চরিত্রে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বাবার রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী নয় ইন্দ্র। সময়ের সঙ্গে নিজের সুবিধা এবং রাজনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়াই তার কাছে বড় হয়ে ওঠে। আর সেখান থেকেই বাবা-ছেলের সম্পর্কে তৈরি হয় দূরত্ব ও তিক্ততা।
এক মিনিট ছাব্বিশ সেকেন্ডের ট্রেলারের শুরুতেই রজতাভ দত্ত ও ঋত্বিক চক্রবর্তীর কথোপকথন নজর কেড়েছে। পাশাপাশি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং অনসূয়া মজুমদারের উপস্থিতিও গল্পের আবেগকে আরও গভীর করেছে।
গল্পে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২৬ বছর পর। দীর্ঘ সময় গায়েব থাকার পর আচমকাই বাড়িতে ফিরে আসে কমরেড সব্যসাচী। কিন্তু এত বছরে বদলে গিয়েছে সময়, বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এমনকী বদলে গিয়েছে তাঁর নিজের পরিবারও। নিজের পুরনো আদর্শ আর বর্তমান বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি, সেই প্রশ্নই তৈরি করেছে ছবির মূল উত্তেজনা।
রাজনৈতিক পালাবদল, প্রজন্মের মানসিকতার পরিবর্তন এবং বাবা-ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে ‘উইঙ্কল টুইঙ্কল’ যে সৃজিতের অন্যরকম রাজনৈতিক ছবি হতে চলেছে, ট্রেলারেই তার ইঙ্গিত মিলেছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







