না, অতিবৃষ্টি নয়, এমনকি সরাসরি ভূমিকম্পও নয়—নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের নেপথ্যে ছিল বিশাল ‘আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ’ বা হিমবাহের বিরাট অংশ ভেঙে পড়া। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে এমনই তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের জেরেই হিমবাহ ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু পরবর্তী বিশ্লেষণে সেই ধারণা বদলায়।
উপগ্রহচিত্র খতিয়ে ভূবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শুগারের দাবি, প্রায় ২০০০ ফুট চওড়া একটি বিশাল হিমবাহের অংশ প্রায় ৪০০০ ফুট নীচে আছড়ে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায়। সেই বিপুল বরফ তিব্বতের লেন্ডে নদীতে পড়তেই জল, বরফ, কাদা ও পাথর মিশে মুহূর্তে তৈরি হয় ভয়াবহ স্রোত।
পাহাড়ি নদীর প্রবল ঢালের কারণে সেই স্রোত দ্রুত নেমে আসে নেপালের দিকে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীর জল কার্যত ‘জলবোমা’র মতো আছড়ে পড়ে জনবসতিতে। ফলে ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সেতু ও বিস্তীর্ণ এলাকা।
এদিকে বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ, গালচির কাছে মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলী নদীর জলস্তর প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। মালেখুর কাছে একই সময়ে জলস্তর বাড়ে প্রায় ৭ মিটার।
অর্থাৎ, আকাশ থেকে বৃষ্টি নয়—পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা বরফ, জল, কাদা ও পাথরের সেই বিশাল স্রোতই নেপালে তৈরি করেছিল ভয়াবহ ‘জলবোমা’।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







