রাজ্যে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল প্রয়োজন—এবার এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সমালোচনা করা এবং ভুলত্রুটি তুলে ধরা গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই রাজ্যে এমন একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা দরকার, যারা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলকভাবে সরকারের বিরোধিতা করবে।
শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিরোধী রাজনীতির পরিসর নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতির মুখে শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, গত ৭০-৭৫ বছর ধরে বিজেপি বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেছে। কখনও রাজনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, কখনও দলের আসন সংখ্যা নেমে গিয়েছে একেবারে তলানিতে। কিন্তু তারপরও বিজেপি হারিয়ে যায়নি। তাঁর বক্তব্য, শেষ পর্যন্ত মানুষ সবকিছুই মনে রাখে এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিটি ঘটনাই মানুষের বিবেচনায় থাকে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, বিরোধিতা গণতন্ত্রেরই অংশ। সরকারকে প্রশ্ন করার জন্য, সরকারের নীতি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি থাকা প্রয়োজন। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে বিরোধী দলগুলির ভূমিকা আরও শক্তিশালী দেখতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব?
যদিও শমীকের মন্তব্যকে কটাক্ষ করেছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা গণতন্ত্রের মূল কথা হলেও বিজেপি সরকার বাস্তবে সেই নীতি মানছে না।
তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের মিছিল, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দলীয় কার্যালয় নিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই শুধু বক্তব্য রাখলেই হবে না, বিজেপি নেতৃত্বকে নিজেদের কথার বাস্তব প্রয়োগও দেখাতে হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ফলে শমীক ভট্টাচার্যের ‘শক্তিশালী বিরোধী দল’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব রাজনীতির কতটা মিল থাকে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







