যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দু’দিনের অশান্তির মধ্যেই এবার সামনে এল আরও এক বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী একটি ফলক ভাঙার অভিযোগ উঠল ABVP-র বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি ওই ফলকই ভাঙচুর করা হয়েছে। যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ABVP।
বুধবার থেকে SFI, AIDSO-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং ABVP-র পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের বাইরে দুই পক্ষের বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একদিকে জাতীয় পতাকা ও গেরুয়া পতাকা নিয়ে অবস্থান করছিলেন ABVP সমর্থকরা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে লাল পতাকা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন AIDSO-র ছাত্রছাত্রীরা।
গেটে তালা লাগানো এবং প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকায় একসময় গেট বেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন ABVP সমর্থকদের একাংশ। সেই সময় গেটের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, ধাক্কাধাক্কির সময় নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহ্যবাহী ফলকটিতে লাথি মারা হয়। এরপর সেটি ভেঙে যায় এবং পরে ভাঙা ফলকটি ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে ABVP সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়া ও বিশিষ্টজনেদের একাংশ। এক ছাত্রীর বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের সঙ্গে এই ফলক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেটি ভাঙার ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত।
কবি অংশুমান করও ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নন্দলাল বসুর মতো বিশিষ্ট শিল্পীর তৈরি কোনও প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
তবে এই অভিযোগকে ঘিরে এখনও রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত। ABVP-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে সত্যিই কারা ফলকটি ভাঙল, কীভাবে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হল এবং ঘটনার পিছনে ঠিক কী হয়েছিল—তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
দু’দিনের ছাত্র সংঘর্ষের পর এবার যাদবপুরের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার অভিযোগ নতুন করে উত্তেজনা বাড়াল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এখনও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







