রাজ্য বিধানসভায় সিপিএমের একমাত্র বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানার কেন্দ্র ডোমকলকে ঘিরেই এবার বড় উদ্যোগ নিল বাম শিবির। শুধু বিধানসভায় একটি আসন ধরে রাখাই নয়, ডোমকলের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চালু করা হল একটি অনলাইন অভিযোগ জানানোর প্ল্যাটফর্ম। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আমার ডোমকল পোর্টাল’।
মঙ্গলবার ডোমকলে এসে এই পোর্টালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এই পোর্টালের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষ তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, অভাব-অভিযোগ এবং স্থানীয় দাবিদাওয়া সরাসরি বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানাতে পারবেন। রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি থেকে শুরু করে এলাকার অন্যান্য নাগরিক সমস্যা নিয়েও অভিযোগ জানানো যাবে বলে সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে।
সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, মোবাইল ফোন থেকেই কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই এই পোর্টালে প্রবেশ করা যাবে। এরপর নিজেদের সমস্যা বা দাবি জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। শুধু সিপিএম সমর্থকরাই নন, দলমত নির্বিশেষে ডোমকল বিধানসভা এলাকার যে কোনও বাসিন্দা এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
পোর্টাল উদ্বোধনের পর মহম্মদ সেলিম বলেন, রাজ্যের কোনও বিধানসভা এলাকায় এর আগে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, ডোমকলের মানুষ যে রাজনৈতিক দলেরই সমর্থক হন না কেন, তাঁরা তাঁদের সমস্যার কথা বিধায়ককে জানাতে পারবেন। সেই অভিযোগ বা সমস্যার বিষয়টি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেবেন বিধায়ক।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ডোমকল এখন সিপিএমের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘাঁটি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের কোনও বিধায়ক ছিল না। ফলে বিধানসভায় কার্যত শূন্য হয়ে গিয়েছিল বাম শিবির। দীর্ঘ পাঁচ বছর সেই ‘শূন্য’ অবস্থার পর ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ডোমকলের হাত ধরেই বিধানসভায় ফের জায়গা করে নেয় সিপিএম।
আর সেই কারণেই ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে রানার গুরুত্বও দলের মধ্যে অনেকটাই বেড়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এবার সেই কেন্দ্রেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের নতুন মাধ্যম তৈরি করে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে সিপিএম।
সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘আমার ডোমকল পোর্টাল’ শুধুমাত্র একটি অভিযোগ জানানোর প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং বিধায়ক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে। ডোমকলকে সামনে রেখে এই মডেল আগামী দিনে রাজ্যের অন্য এলাকাতেও চালু করা হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







