সরকার বদলের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দেওয়া হলেও, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ফের পুলিশের এক কর্মী গ্রেপ্তার। এবার হাওড়ার সাঁকরাইল থানার নাজিরগঞ্জ ফাঁড়ির এক কনস্টেবলকে এক লক্ষ টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা। ধৃত কনস্টেবলের নাম শুভময় মণ্ডল।
অভিযোগ, এক প্রোমোটারের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন শুভময়। বিষয়টি রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখায় জানান ওই প্রোমোটার। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তকারীরা ফাঁদ পাতার পরিকল্পনা করেন। সেই মতো প্রোমোটারের সাহায্যেই মঙ্গলবার ঘুষ নেওয়ার সময় অভিযুক্তকে ধরার ব্যবস্থা করা হয়।
তদন্তকারীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেমিক্যাল মেশানো টাকা নিয়ে নাজিরগঞ্জ ফাঁড়িতে পৌঁছন ওই প্রোমোটার। অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময়ই দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা শুভময়কে ঘিরে ফেলেন। তদন্তকারীদের দেখতে পেয়েই তাঁর হাতে থাকা টাকার দুটি বান্ডিল, অর্থাৎ মোট ৫০ হাজার টাকা ফেলে দেন তিনি। তবে বাকি ৫০ হাজার টাকা ফেলে দেওয়ার সুযোগ পাননি। ঘটনাস্থলেই তাঁকে আটক করা হয়।
প্রথমে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন ওই কনস্টেবল। এরপর তদন্তকারীরা রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন। টাকায় ব্যবহার করা রাসায়নিক তাঁর হাতে লেগেছিল কি না, তা পরীক্ষা করতে তাঁর হাত জলে ডোবানো হয়। এরপর সেই জল গোলাপি হয়ে যায় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপরই শুভময় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর ফের প্রশ্নের মুখে পুলিশের একাংশের ভূমিকা। কারণ, মাত্র একদিন আগেই হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার এক সাব-ইন্সপেক্টরকেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ধৃত এসআই সুব্রত সরকারের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং সেই টাকা উদ্ধারের কথাও জানা যায়।
ফলে পরপর দু’দিনে হাওড়া থেকে পুলিশের দুই আধিকারিক ঘুষের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর আগে ঝাড়গ্রামেও দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বারবার জানিয়েছে নতুন সরকার। সোমবার পুরুলিয়ার মানবাজার থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন। তার পরেই ফের ঘুষের অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল গ্রেপ্তার হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







