ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহেই নতুন করে আলোচনায় সম্ভাব্য নরেন্দ্র মোদী-তারেক রহমান বৈঠক। আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে ওই সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সম্প্রতি বিদেশ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকে ভারত সফরের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
এর আগে ২৩ জুলাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, ভারতের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ জুলাই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্ব। সেই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই সফর শুধু ব্রিকসের আউটরিচ বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। প্রাক্তন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেনেরও মত, এই সফর বাস্তবায়িত হলে তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পথ খুলে যেতে পারে।
যদিও এখনও বাংলাদেশ সরকারের তরফে সফর চূড়ান্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই বৈঠককে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈঠক হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসতে পারে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







