শিলিগুড়ি/কলকাতা, ১৬ জুলাই ২০২৬: ভারতের ভৌগোলিক নিরাপত্তার সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চল ‘চিকেনস নেক’ (Siliguri Corridor) এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করতে এবার সরাসরি কোমর বেঁধে নামছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। আগামী ১৮ জুলাই, শনিবার শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’য় (Uttarkanya) আয়োজিত হতে চলেছে দেশ ও রাজ্যের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের মেগা বৈঠক। এই বৈঠকে যোগ দিতে বিশেষ সফরে উত্তরবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও নবান্ন সূত্রে খবর, এই মেগা বৈঠকের মূল এজেন্ডা হতে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, সীমান্তবর্তী এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন, সীমান্ত বেড়া বা কাঁটাতারের জট সম্পূর্ণ মুক্ত করা এবং অনুপ্রবেশ রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ।
কাটল জমি জট: বিএসএফের হাতে ১০২৫ একর জমি দিল শুভেন্দুর সরকার
বিগত তৃণমূল জমানায় বিএসএফ (BSF)-কে সীমান্ত বেড়া বা কাঁটাতার দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তর করছিল না বলে বারবার অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর পূর্ববর্তী বাংলা সফরগুলিতে এই নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র তোপ দেগেছিলেন। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই দীর্ঘদিনের জট মাত্র কয়েক মাসেই কেটে গিয়েছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় রাজ্য সরকারের অভূতপূর্ব সক্রিয়তার খতিয়ান নিচে দেওয়া হলো:
-
রেকর্ড জমি হস্তান্তর: গত মঙ্গলবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে গত ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বিএসএফের হাতে মোট ১০২৫.৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে।
-
১৭২ কিলোমিটার কাঁটাতার: হস্তান্তরিত এই জমির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭২.৬০৯২২ কিলোমিটার। এর ফলে সীমান্তে যে সমস্ত ‘গ্যাপ’ বা খোলা জায়গা ছিল, সেখানে দ্রুত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে বিএসএফ।
বৈঠকে থাকছেন স্বরাষ্ট্র সচিব থেকে সীমান্তবর্তী জেলার ডিএম-এসপি-রা
শনিবার উত্তরকন্যার এই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিভিউ মিটিংয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপাররা (SP)।
বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচনার মূল দিকগুলি:
-
স্মাগলিং ও অনুপ্রবেশ রোধ: বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে গরু পাচার, জাল নোট এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা।
-
সীমান্তবর্তী এলাকার ভূমি রিভিউ: বিএসএফের আউটপোস্ট (BOP) এবং বর্ডার রোডের জন্য আরও যেসব এলাকায় জমি প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে দ্রুত ক্লিয়ারেন্স দেওয়া।
-
চিকেনস নেক স্ট্র্যাটেজি: ভূ-কৌশলগতভাবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়ে রাখা শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় সুরক্ষার ডবল লেয়ার তৈরি করা, যাতে কোনও বিদেশি বা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি সেখানে নাশকতার ছক না কষতে পারে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার (Double Engine Government) থাকার সুবাদে দিল্লির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং নবান্নের এই অভূতপূর্ব প্রশাসনিক ড্যামেজ কন্ট্রোল বাংলার সীমান্ত সুরক্ষাকে এক ঐতিহাসিক ও নিশ্ছিদ্র স্তরে নিয়ে যেতে চলেছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







