কলকাতা, ২ জুলাই: রাজনীতিতে তীব্র মতাদর্শগত বিরোধিতা থাকতে পারে, কিন্তু সত্য, নীতি ও মানবিক আদর্শের খাতিরে সেই বিরোধিতার ঊর্ধ্বে উঠে পাশে দাঁড়ানোর নামই প্রকৃত মনুষ্যত্ব। আর আরও একবার সেই সৌজন্যের নজির স্থাপন করলেন প্রবীণ বাম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জে দলীয় বৈঠকের মাঝে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর ওপর হওয়া নজিরবিহীন হামলার তীব্র নিন্দা করে সোচ্চার হলেন এই বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা।
বুধবার কালীগঞ্জে একটি ঘরের ভেতর দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, সাংসদের উপস্থিতির খবর পেয়েই আচমকা ওই বাড়ির বাইরে এক বিশাল উত্তেজিত জনতা ভিড় জমায়। এর পরই ঘরের জানালা লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা একের পর এক ডিম, গোবর ও কাদা ছুড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে বাইরে থেকে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও তোলা হয়। জানলার আড়ালে দাঁড়িয়ে গোটা ঘটনার ভিডিও নিজের ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেন মহুয়া মৈত্র। লাইভে ক্ষুব্ধ সাংসদকে বলতে শোনা যায়,
“দেখুন কীভাবে জানালা দিয়ে ডিম ছুড়ছে! কীভাবে ঘরের মধ্যে এসে পড়ছে ডিম।”
রাজ্যে জনরোষের নাম করে সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধী নেতাদের ওপর এই ‘ডিম থেরাপি’ ও হেনস্থার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নাগরিক মহল যখন সরব, ঠিক তখনই মহুয়া মৈত্রর পাশে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। পোস্টে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন:
“মহুয়া মৈত্র আমার রাজনৈতিক শত্রু হতে পারেন, কিন্তু তিনি একজন নির্বাচিত সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে জুলুমবাজির কোনও অভিযোগ আছে বলে আমার জানা নেই। যেভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হল তা সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জার। এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে সভ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের একজোট হয়ে প্রতিবাদ করা উচিত।”
অবশ্য আইনি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের এমন ‘দলীয় গণ্ডি’ পেরিয়ে মন্তব্য করার ইতিহাস এই প্রথম নয়। এর আগে তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে আদালতে সওয়াল করার জন্য নিজের দলের অন্দরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই বর্ষীয়ান আইনজীবী। এমনকি এক সময়ে তাঁকে এমনও বলতে শোনা গিয়েছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে যদি আইনি লড়াইয়ে কেউ না দাঁড়ান, তবে তিনি নিজে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে আদালতে সওয়াল করতে প্রস্তুত। বিকাশের এই ধরণের মন্তব্য বারবার সিপিএমের অন্দরে অস্বস্তি ও বিতর্কের জন্ম দিলেও, মহুয়া মৈত্রর এই চরম হেনস্থার দিনে তাঁর নেওয়া গণতান্ত্রিক অবস্থানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন রাজ্যের সুশীল ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







