আসানসোল: আসানসোল উত্তর বিধানসভা এলাকার দক্ষিণ ধাদকা রাধা ভবন পাশে অঞ্চলে একটি পুকুর ভরাট এবং সেখানে কথিত অবৈধ দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাছে একটি গণস্বাক্ষরিত আবেদন জমা দিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগে আসানসোল পুরনিগমের এক প্রাক্তন কাউন্সিলরের নাম উঠে এসেছে।
পুকুর ভরাট হলে বাড়তে পারে জল জমার সমস্যা, আশঙ্কা স্থানীয়দের
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দক্ষিণ ধাদকার জে.সি. বোস লেন রাধা ভবন ও বাইপাস রোডের কাছে অবস্থিত এই পুকুরটি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধার। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি ছাড়াই পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।
বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এভাবে পুকুর ভরাট চলতে থাকলে এলাকার প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষার সময় জল জমার সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি পুকুরটির অস্তিত্ব বিপন্ন হলে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন বিধায়ক
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় জানান, স্থানীয় পুকুর ভরাটের অভিযোগ তাঁর কাছে আসার পর তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
বিধায়ক বলেন, কোনও ধরনের বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, অতীতে যদি কোথাও বেআইনি কাজ হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পুকুর ভরাট বা অবৈধ দখলের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের-সহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে। আইন ভাঙার প্রমাণ মিললে দোষীদের জেলেও যেতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণস্বাক্ষরিত আবেদনে দ্রুত তদন্তের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার এবং পুকুর ভরাটের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন।
পাশাপাশি, তদন্তে বেআইনি ভরাট, নির্মাণ বা জমি দখলের অভিযোগের সত্যতা সামনে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক তদন্তের দিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা
এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে পুকুরটিকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে এলাকার প্রাকৃতিক নিকাশি ব্যবস্থা ও পরিবেশের ক্ষতি না হয়।
তবে পুকুর ভরাট ও অবৈধ দখলের অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







