মুর্শিদাবাদের মুসলিম-অধ্যুষিত রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির জয় ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। ভোট প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই ফলকে কেন্দ্র করে বিজেপির সমর্থন বৃদ্ধি এবং বিরোধী শিবিরের ভোট বিভাজন—দুই বিষয়ই আলোচনায় উঠে আসছে।
উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নাম ও প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। মমতাপন্থী গোষ্ঠী ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে ফুটবল প্রতীকে এবং ঋতব্রতপন্থী গোষ্ঠী ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে খাম প্রতীকে নির্বাচনে লড়ে। নন্দীগ্রামে মমতাপন্থী প্রার্থী সরে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করলেও রেজিনগরে তাঁদের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, রেজিনগরে বিজেপির শংকররাভ সরকার ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৯১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আম জনতা উন্নয়ন পার্টির গোলাম নবী আজাদ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৯৮ ভোট। কংগ্রেসের আবদুল্লাহিল কাফি পেয়েছেন ৩৭৮৫ ভোট। মমতাপন্থী তৃণমূলের রবিউল আলম চৌধুরী পেয়েছেন ৩১২৩ ভোট, আর গণতান্ত্রিক তৃণমূলের সাফিউজ্জামান শেখ পেয়েছেন ১৩৯০ ভোট।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন। বিজেপির বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট এবং তৃণমূলের আতাউর রহমান পেয়েছিলেন ৪১ হাজার ৭১৮ ভোট। সেই ফলের সঙ্গে উপনির্বাচনের ফলের তুলনা রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই ফলের পেছনে ভোটারদের সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







