রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতে মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বুধবার এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ নিয়ে অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মীদের কাছে এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’—সব শ্রেণির যোগ্য রাজ্য সরকারি কর্মীরাই এই বকেয়া ডিএ পাওয়ার আওতায় থাকবেন। তবে প্রত্যেক কর্মীর প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণ করা হবে তাঁর চাকরি ও বেতনের নথি যাচাই করে। সেই হিসাবের ভিত্তিতেই বকেয়া অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ কর্মীদের বকেয়া অর্থ তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীদের প্রাপ্য টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। অবসরের তিন মাসের মধ্যে রয়েছেন, এমন যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রেও সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা পড়া বকেয়া টাকা তোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ওই অর্থ তোলার অনুমতি থাকবে না। ফলে টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হলেও গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’-এর কর্মীদের একাংশকে তা ব্যবহারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। অবসরের কাছাকাছি থাকা যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে অবশ্য সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থ দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরি ও বেতনের নথি যাচাই করে প্রাপ্য বকেয়ার হিসাব তৈরি করতে হবে। অর্থ বরাদ্দের অপেক্ষা না করেই ট্রেজারি বকেয়া ডিএ-র বিল প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে। এর ফলে হিসাব নির্ধারণ ও বিল তৈরির কাজ দ্রুত এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতে মেটানোর সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে কবে থেকে বাস্তবে টাকা জমা পড়বে, তা নির্ভর করবে নথি যাচাই, প্রাপ্য অর্থের হিসাব এবং বিল প্রক্রিয়াকরণের উপর।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







