তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগ ঘিরে মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন সাংসদ। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ, আগামী ছয় মাস কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না রাজ্য পুলিশ। তবে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে সাংসদকে।
বর্ধমানের এক ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে রানিগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল কীর্তি আজাদ এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, গত বছরের ২১ মে দুর্গাপুরের একটি বাংলোয় ওই ব্যবসায়ীকে ফোন করে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে কীর্তির এক সহযোগী তাঁর কাছে ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে তাঁর রান্নার গ্যাসের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি ব্যবসায়ীর। গোটা ঘটনার অডিয়ো রেকর্ড রয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি।
এই মামলাতেই মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি হয়। বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, আগামী ছয় মাস সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ভবানীভবনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা। এরপর ফের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে অন্তত সাত দিন আগে নোটিস দিতে হবে।
আদালতে কীর্তি আজাদের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২৫ সালে কয়লা মন্ত্রকে চিঠি দিয়ে আসানসোলে কয়লা পাচারের অভিযোগ তোলার পর থেকেই তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। পাল্টা শুনানিতে বিচারপতি জানতে চান, তাহলে কি তিনি ‘সৎ তৃণমূল’?
এরপর মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে আসে কথিত হুমকির অডিয়ো ক্লিপ। আদালতে সেই অডিয়ো শোনানো হয়। তবে সেটি শুনেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হওয়ায় কীর্তি আজাদকে আপাতত রক্ষাকবচ দিয়েছে হাইকোর্ট।
অর্থাৎ তদন্ত চলবে, জিজ্ঞাসাবাদও হতে পারে—কিন্তু আগামী ছয় মাস গ্রেফতার বা অন্য কোনও কড়া পদক্ষেপ থেকে আপাতত সুরক্ষা পেলেন তৃণমূল সাংসদ।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







