রাজনৈতিক আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ তো ছিলই। এবার তা গড়াল ব্যক্তিগত কটাক্ষ এবং একে অপরকে নতুন নামে ডাকার লড়াইয়ে। তৃণমূলের অন্দরের কোন্দলকে কেন্দ্র করে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে এখন দুই নাম—‘লিপস্টিক কাকিমা’ বনাম ‘কাঁপুনি কাকু’।
সকালে দলের বর্ষীয়ান নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে ‘লিপস্টিক কাকিমা’ বলে কটাক্ষ করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকার সময় পদ, সম্মান ও রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পর কঠিন সময়ে কেউ কেউ অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন।
এর আগেও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে ‘ভ্রাম্যমান বিউটিপার্লার’ এবং ‘পরচুলা’র মতো শব্দ ব্যবহার করে কটাক্ষ করেছিলেন কুণাল ঘোষ।
এবার সেই বক্তব্যের পাল্টা জবাব এল ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবির থেকে। কুণাল ঘোষকে ‘কাঁপুনি কাকু’ বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত। তাঁর বক্তব্য, কুণাল ঘোষ যদি মনে করেন অন্যরা রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন, তাহলে তাঁর নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
ঋজু দত্ত কুণাল ঘোষের রাজ্যসভার সদস্য হওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলা একটি মামলার প্রসঙ্গও তুলে আক্রমণ করেন।
এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলের বর্ষীয়ান নেত্রীকে নিয়ে কুণালের মন্তব্য নিয়েও একাংশ ক্ষুব্ধ বলে দাবি ঋতব্রতপন্থী শিবিরের।
সব মিলিয়ে ‘লিপস্টিক কাকিমা’ বনাম ‘কাঁপুনি কাকু’—এই নতুন নামকরণ ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য। আর রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এভাবে শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এলে তার রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে বিজেপি।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







